অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে তীব্র উদ্বেগের মধ্যেও শুক্রবার দিনের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে তেলের এই দরপতন ঘটে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত এবং তেলবাহী জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক লেনদেনে।
লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১০৫ ডলার ৫১ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৯৭ ডলার ৪৩ সেন্টে নেমে আসে।
জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি তাদের জরুরি মজুত থেকে ২ কোটি ব্যারেলের বেশি ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর পাশাপাশি গত মার্চ মাসে বিশ্ববাজারে অবশিষ্ট যে পরিমাণ তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাও দ্রুত সরবরাহের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় কমাতে ওয়াশিংটন নতুন কৌশল বিবেচনা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে অতীতে তেল পরিবহন করেছে এমন কিছু জাহাজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মূলত বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের ব্যয় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এমন পদক্ষেপের কথা ভাবছে দেশটি।
তবে বিশ্ববাজারে এই দরপতনের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এখনো প্রবল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন