অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কেবল সরকারি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে বসে না থেকে নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি, হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা ও সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে নামেন তিনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র ও অস্ত্রোপচার কক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতার মান দৃশ্যমানভাবে উন্নয়নের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান।
সেখানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি ডেঙ্গু বিস্তার রোধে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বছরের এই সময়ে বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক রূপ নেয়। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে আক্রান্ত হন এবং অনেকের প্রাণহানি ঘটে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করার সবচেয়ে মোক্ষম এবং কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। আর এই প্রতিরোধের প্রধান শর্ত চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে আমি তোমাদের সার্বিক সহযোগিতা চাই। দেশের বিশাল তরুণ সমাজ নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাজধানীর বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি মানুষের এক বিশাল জনবহুল নগরী। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন, তবে জনবলের দিক থেকে তাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই কেবল প্রশাসন বা সিটি করপোরেশনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না, প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করতে হবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শিক্ষার্থীরা কোনো নির্দিষ্ট সেবা সংগঠনের সদস্য হোক বা না হোক, নাগরিক হিসেবে দেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব তাদের কাঁধেই বর্তায়। ফলে নিজের ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুরো এলাকা পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ সবাইকে নিতে হবে।
যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার ক্ষতিকর অভ্যাস বন্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে বর্জ্য ফেললে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সচেতন করার তাগিদ দেন তিনি।
একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণের সুবিধার জন্য বসানো ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে রোপণ করা গাছের চারা চুরির ঘটনাও তুলে ধরে তিনি এসব অপতৎপরতা রুখতে সাধারণ নগরবাসীকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন