শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,
প্রাকৃতিক দুর্যোগ

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

পানামায় আঘাত হানা সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। গত সপ্তাহে সংঘটিত এই ভূকম্পনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক। তিনি জানান, ভূতাত্ত্বিক তত্ত্ব ও অতীত ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে এই মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক অব্যাহত থাকতে পারে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ফলে ভূগর্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হওয়ায় ভূত্বকের টেকটোনিক প্লেটগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে চলেছে।

তবে সাম্প্রতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ তথ্যে দেখা গেছে, আফটারশকগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসছে। নেস্টর লুক ব্যাখ্যা করেন, চিরিকি এবং বোকাস দেল তোরো অঞ্চলে যেসব ভূকম্পন ধরা পড়েছে, সেগুলো মূলত পৃথক ভূচ্যুতি বা ফল্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গত ৯ অক্টোবরের মূল ভূমিকম্পের সঙ্গে সেগুলোর সরাসরি কোনো সংযোগ নাও থাকতে পারে।

ভূকম্পনের পাশাপাশি পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলরেখায় ভৌগোলিক রূপান্তরের নানা তথ্য খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা। উপকূলের বেশ কিছু এলাকায় সাগরতলের পাথর দৃশ্যমান হওয়া এবং সমুদ্রের পানি অনেকটা পেছনে সরে যাওয়ার মতো অস্বাভাবিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

বিজ্ঞানীদের মতে, ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক চ্যুতির প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে কিংবা নিচে দেবে যেতে পারে, যার ফলে সরাসরি বদলে যেতে পারে ভূপৃষ্ঠের সাধারণ গঠন। এই আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনে ফল্টের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধান চালাচ্ছেন ভূতত্ত্ববিদেরা।

উপকূলের পানিতে আকস্মিক বর্ণ পরিবর্তনের বিষয়টিও বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে। বেশ কিছু স্থানে সমুদ্রের পানি স্বাভাবিক রং হারিয়ে ধূসর হয়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

লুকের অভিমত, প্রবল ভূকম্পনের তীব্রতায় ভূগর্ভস্থ পানি বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে রঙের এই পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পানির রাসায়নিক নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো জরুরি।

দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাস এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ভূমিকম্পের প্রভাবে পুরো দ্বীপটি যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান করছেন যে দ্বীপজুড়ে কোনো গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছে কি না এবং তা সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না।

এমন ফাটলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে তা নতুন ভূচ্যুতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেবে।

এদিকে দেশে সামগ্রিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে অন্তত ১৫০টি বিশেষ পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেস। একই সঙ্গে দেশজুড়ে সার্বিক আগাম সতর্কীকরণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অন্তত ৭০০টি সেন্সর বসানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।