শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ৯ মাসে ৪১০ অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, জানালেন প্রেস সচিব

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১২:০২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ৯ মাসে ৪১০ অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, জানালেন প্রেস সচিব

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে অন্তত ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধানের প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)। একই সময়কালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নিয়ে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে লক্ষ্য করে ৪৫১টি অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে। একটি স্বতন্ত্র তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে তিনি এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনটির নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতার সামনে সবচেয়ে বড় পেশাগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মুখরোচক ও অনিয়ন্ত্রিত তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন রয়েছে। আর এ কারণেই যেকোনো স্পর্শকাতর খবরের আসল সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষ এখনো দায়িত্বশীল মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখেন।

সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের সুযোগে একশ্রেণির ব্যবহারকারীর দায়িত্বহীন আচরণও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এখনো জনগণের মাঝে নিজের গ্রহণযোগ্যতা টিকিয়ে রেখেছে। সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রত্যক্ষ করার পর সেটির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে টেলিভিশন চ্যানেল ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর নজর দেন।

গুজব ও অপপ্রচারের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও বেশি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন প্রেস সচিব।

তিনি পরামর্শ দেন, প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও মূলধারার গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান চালু করা উচিত। প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি তথ্য যাচাইমূলক সম্প্রচার সাধারণ মানুষকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য চিহ্নিত করতে তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা করতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

সালেহ শিবলী সতর্ক করে বলেন, কখনো কখনো বড় ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমও যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে অসাবধানতাবশত ভুয়া ছবি বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাই কোনো তথ্য বা দৃশ্য জনসমক্ষে প্রচারের আগে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করা প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের অপরিহার্য দায়িত্ব।