বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,

স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে, দেশের বাজারে কত?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:০২ পিএম

স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে, দেশের বাজারে কত?

ছবি: দিনাজপুর টিভি আর্কাইভ

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বিনিয়োগ খাতে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে এই ছন্দপতন শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা এখন চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

স্পট মার্কেট ও ফিউচার্স উভয় বাজারেই দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটা ২১ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৪০ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একই সাথে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দামও শূন্য দশমিক তিন শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৬২ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির হয়।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, দিনের শেষ ভাগে প্রকাশিতব্য মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্যের আশঙ্কায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী মূলধনের নতুন ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এই সতর্কতার কারণে মার্কিন ডলারের মান, সোনার দাম এবং ডলার-নির্ভর অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মূল্যে দৃশ্যমান ওঠানামা চলছে।

তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার পুনরায় চাঙ্গা হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। ফাওয়াদ রাজাকজাদা উল্লেখ করেন, মার্কিন ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী হয়ে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর পর আবার স্থিতিশীল হলে স্বর্ণের বাজারে নতুন জোয়ার তৈরি হতে পারে। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম চার হাজার ৫০০ ডলার থেকে চার হাজার ৭০০ ডলারের উচ্চতায় উঠে যেতে পারে।

সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতির বৈশ্বিক ধাক্কা সামলাতে সোনাকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করেন আর্থিক বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে সুদের হার বেশি থাকলে সুদহীন এই মূল্যবান ধাতুর চেয়ে সুদে পরিচালিত বন্ড বা অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এই বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতি ও সুদের হারের সিদ্ধান্তের দিকে নিবিড় নজর রাখছেন।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও অস্থিরতা চলছে।

আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে রুপার দাম এক দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে প্ল্যাটিনামের দরও শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে প্রতি আউন্স এক হাজার ৬৫৩ দশমিক ১৮ ডলারে নেমেছে। তবে উল্টো পথে হেঁটে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স এক হাজার ১৩২ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছে।

বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেই দেশের বাজারেও সোনার দাম এখন রেকর্ড স্তরে রয়েছে।

স্থানীয় বাজারে বর্তমানে সব ধরনের সরকারি ভ্যাট যুক্ত করে প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ওজনের ২২ ক্যারেটের পাকা স্বর্ণের দাম পড়ছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকায়। একই সাথে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এক লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।