অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
মৌসুমি বায়ুর প্রস্থান আর বাতাসে আর্দ্রতা কমে আসায় দেশজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে আগামী কয়েক দিন উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উপকূলের বাইরে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সারা দেশে তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। উত্তরের জনপদে ভোরের আলো ফুটতেই হালকা কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের পর বুধবার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। আগের দিন মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বুধবার কমে ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশমুখ চুয়াডাঙ্গাতেও তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার দেশের কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বুধবার পরিস্থিতির ইতিবাচক বদল লক্ষ্য করা গেছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি তুলে ধরেছে আবহাওয়া বিভাগ।
পূর্বাভাসে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সার্বিক আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার কথা। এ সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বৃষ্টিপাতের ধারা সপ্তাহান্তেও অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শুক্র ও শনিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিচ্ছিন্ন কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। তবে রোববার ও সোমবার থেকে সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে আগামী পাঁচ দিনে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির এই রূপান্তর নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের আগের সেই তীব্র আর্দ্রতা আর নেই। এর ফলে থার্মোমিটারে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি দেখা গেলেও নাগরিকদের মধ্যে ভ্যাপসা গরমের চরম অস্বস্তি অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি জানান, উপকূলীয় জেলাগুলোতে আগামী দুই থেকে তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু কিছু জায়গায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। বাকি অঞ্চলগুলোতে প্রধানত শুষ্ক পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়। এর বাইরে টেকনাফে পাঁচ, চট্টগ্রামে দুই, কক্সবাজার ও আমবাগানে এক মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়। গোপালগঞ্জেও সামান্য বৃষ্টিপাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে উপকূলীয় বৃষ্টি শেষ হলে উত্তরের হিমেল হাওয়ার বিস্তার ঘটবে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন