বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন মির্জা ফয়সাল ও দেলাওয়ারের কোলাকুলিতে স্বস্তি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন মির্জা ফয়সাল ও দেলাওয়ারের কোলাকুলিতে স্বস্তি

মির্জা ফয়সাল আমীন ও জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনার আবহ ছাপিয়ে উত্তরের সীমান্ত জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা গেল রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রকাশ্যে করমর্দন ও আন্তরিক আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে জেলা সার্কিট হাউস চত্বরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য তৈরি হয়।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসন ছেড়ে দেওয়ার পর এই উপনির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

রাষ্ট্রপতির শূন্য আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কাণ্ডারি হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন তাঁর ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন। তাঁর বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। দুই হেভিওয়েট নেতার মুখোমুখি লড়াইকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে যখন চাপা উদ্বেগ ও সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল, তখনই সার্কিট হাউসে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

উপলক্ষটি ছিল নির্বাচন কমিশন আয়োজিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা।

জেলা নির্বাচন অফিস ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পাঁচটি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এই প্রস্তুতিমূলক আলোচনায় অংশ নেন।

সভা শুরুর আগে সার্কিট হাউসের খোলা চত্বরে প্রবেশ করতেই মুখোমুখি হন মির্জা ফয়সাল আমীন ও দেলাওয়ার হোসেন।

মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক দূরত্বের দেয়াল ভেঙে এগিয়ে যান দুজন এবং একে অপরকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন। সেখানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, নেতাকর্মী ও সাধারণ উৎসুক মানুষ এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন।

কোলাকুলির পরপরই দুজনের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় জমে ওঠে।

জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন স্মিত হেসে ফয়সাল আমীনকে বলেন, আপনার সঙ্গে দেখা হওয়া এটা দুর্ভাগ্য না সৌভাগ্য। কোনো বিলম্ব না করে সস্নেহে মির্জা ফয়সাল আমীন জবাব দেন, তুমি বলো দেলাওয়ার, আমার সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য। এরপর তিনি আরও মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তোমাকে আমি বলেছিলাম ভাইয়ের নির্বাচনের সময় বাসায় এসে একসঙ্গে চা খাওয়ার।

সার্কিট হাউসের এই সৌহার্দ্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দারুণ স্বস্তি ছড়িয়ে দিয়েছে।

এলাকার প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, নির্বাচন নিয়ে যখন সাধারণ ভোটাররা নানামুখী সহিংসতার আশঙ্কায় ভুগছিলেন, তখন দুই শীর্ষ প্রার্থীর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য মানুষের মনের সংশয় ও ভীতি অনেকটাই কাটিয়ে দিয়েছে।