অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার মধ্যে ডিজেলের বৈশ্বিক সংকট নিকট ভবিষ্যতে কাটছে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)। প্যারিসভিত্তিক জ্বালানি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ডিজেলের এই টানাপোড়েন ও সরবরাহ ঘাটতি ২০২৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে। রয়টার্সের বরাতে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়ার চলমান সশস্ত্র সংঘাতের অভিঘাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।
জ্বালানি তেলের সামগ্রিক চাহিদায় বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। আইইএ-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংঘাত ও সরবরাহ বিপর্যয়ের কারণে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সার্বিক চাহিদা দৈনিক প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেতে পারে। এই চাহিদাহ্রাসের একটি বড় অংশই সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি খাত থেকে আসছে। সামগ্রিক চাহিদাহ্রাসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ প্রভাব কেবল ডিজেল খাতের ওপর গিয়েই পড়ছে।
ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যে সাধারণ ভোক্তার জীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিবহন ও কৃষি খাতের প্রধান জ্বালানি হওয়ায় এর চড়া দাম সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির গতি মন্থর করে তুলছে। একই সাথে বৈশ্বিক কৌশলগত মজুত দ্রুত তলানিতে নেমে আসায় পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল রূপ নিয়েছে।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি উৎপাদক দেশ থেকে তেল রপ্তানি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকারে তেল পরিবহন পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে।
কিন্তু হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত সমুদ্রপথে নতুন করে সামরিক হামলার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনকে বারবার তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি না কমলে সরবরাহ স্বাভাবিক করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা এবং শীর্ষ ধনী দেশগুলোর জোট জি-সেভেন তাদের জরুরি পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার বিকল্প কৌশল বিবেচনা করছে। তবে বাজার বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার দাবি, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের উত্তাপ প্রশমিত না হলে ২০২৭ সালের আগে বিশ্ববাসীর এই জ্বালানি দুর্ভোগ ও উচ্চ মূল্যের চাপ কমার কোনো স্পষ্ট সম্ভাবনা নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন