বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,

সার্ক পুনরুজ্জীবনে নেপালের সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

সার্ক পুনরুজ্জীবনে নেপালের সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার কার্যকর ও গতিশীল করতে নেপালের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং আগামীতে এই অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার দৃঢ় প্রত্যয় তুলে ধরেন।

বৈঠকে দুই দেশের যৌথ সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন নেপালের রাষ্ট্রদূত।

ঘনশ্যাম ভান্ডারী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে চমৎকার মিল রয়েছে এবং উভয় দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটও প্রায় একই ধারার। শিক্ষা খাতে বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথ সহযোগিতার ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে আড়াই হাজারের বেশি নেপালি শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।

একই সাথে তিনি নিজ দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলাদেশের সহায়তা কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, নেপালে সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্গত অঞ্চলগুলোর জরুরি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক মানবিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

নেপালের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাবে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নেপাল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র। ঐতিহাসিক এই বন্ধুত্বের সূত্র ধরে বাংলাদেশ যেকোনো সংকটে সবসময় নেপালের পাশে থাকবে এবং দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

আঞ্চলিক রাজনীতির স্থবিরতা কাটাতে তিনি সার্ক ফোরামকে আবার সচল করার ওপর জোর দেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক দরকষাকষিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি এককভাবে কথা না বলে আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে সম্মিলিত আওয়াজ তোলে, তবে লক্ষ্য অর্জন অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে। তাই সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে নেপালকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে পরিবহন খরচ ও মধ্যবর্তী ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা সরাসরি পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এই অর্থনৈতিক সুবিধার ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সম্মিলিতভাবে বাজার রক্ষা করা গেলে দেশীয় শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিকে যেকোনো বৈশ্বিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া অনেক সহজ হবে।

সৌজন্য সাক্ষাতের শেষভাগে উভয় পক্ষই দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও গভীর, বহুমাত্রিক ও টেকসই রূপ দেওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।