অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে হারিয়ে নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা নরসিংদীর আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্র। জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই তাঁর। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে পেছনে ফেলে পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। এরপর নিজের জমানো সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলেন একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন পরিচালিত হচ্ছে। সমাজ পরিবর্তনে অনন্য এই জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নরসিংদীর পাঁচদোনার এই উদ্যোক্তা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দীর্ঘ জীবনসংগ্রাম, ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এ সময় আলতাফ হোসেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের নানাবিধ সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য একটি আধুনিক নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
নরসিংদীর পাঁচদোনায় ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন, যিনি স্থানীয়ভাবে দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত।
হাতহীন অবস্থায় জন্ম নেওয়া এই মানুষটি অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের দুটি পা ব্যবহার করে পড়াশোনা ও লেখালেখি শেখেন। নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তব রূপ দিতে ২০০৭ সালে পাঁচদোনা এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দিয়ে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করান তিনি। বর্তমানে সেখানে ১০ জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজকর্ম ও শিক্ষা কার্যক্রম পা দিয়েই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন দুঃখু মিয়া।
সরাসরি সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুঃখু মিয়া।
তাঁর মতো নিঃস্বার্থ সমাজকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশ রূপান্তরের এই অগ্রযাত্রায় আপনাদের মতো মানুষের সমাজে অত্যন্ত প্রয়োজন। সবাই এমন ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে দেশ গঠনে এগিয়ে এলে পুরো দেশের পরিবর্তন সহজ হয়ে যাবে।
সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসা নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এমন সাহসী ও মানবিক কাজ সমাজের অন্যান্য মানুষকেও ভালো কাজে অংশ নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সংকট দূর হবে এবং সেখানে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন আরও নিশ্চিত ও নিরাপদ হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন