বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,
বিমান চলাচল সংকট

সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট স্থগিত: ঢাকায় আটকা পড়েছেন ১৪ হাজারের বেশি যাত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট স্থগিত: ঢাকায় আটকা পড়েছেন ১৪ হাজারের বেশি যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিগামী ফ্লাইট স্থগিত হয়ে পড়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার প্রবাসী ও ওমরাহযাত্রী।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যের ৮৯টি ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের ফলে অন্তত ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রীর ভ্রমণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছে।

আটকে পড়া যাত্রীদের বেশিরভাগই সৌদি প্রবাসী শ্রমিক।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সরাসরি চলাচলকারী স্থগিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

একই সাথে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুটের ফ্লাইটগুলোও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইনস; তাদের ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর পাশাপাশি এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে।

আকাশপথের এই অচলাবস্থার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকট মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও কৌশলগত অবকাঠামো নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানার পর দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। আকাশসীমায় ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ সামরিক ও বেসামরিক সতর্কতার অংশ হিসেবে ফ্লাইট চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচিতে।

বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরা প্রবাসী শ্রমিক, নতুন ভিসাপ্রাপ্ত কর্মী এবং ধর্মপ্রাণ ওমরাহযাত্রীরা রয়েছেন। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে ঢাকায় জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা কীভাবে হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আকাশপথ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি জেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।