অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা ও দ্বিপাক্ষিক নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ণ চিরাসাওয়াদি।
বৈঠকে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতে যৌথ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম এবং থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের (Ranong Port) মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথ চালুর কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
থাই রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ণ চিরাসাওয়াদি উল্লেখ করেন, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হলে তা বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই সামুদ্রিক করিডোর চালু হলে ঢাকা ও ব্যাংককের মধ্যকার পণ্য পরিবহনে সময় এবং আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকেই এগিয়ে নেবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। এর প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা, যার ফলে নতুন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে।
সরাসরি সামুদ্রিক রুট চালুর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার গতি বাড়াতে নৌপরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র যোগাযোগের পরিধি বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা ও সার্বিক কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে দেশের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নৌ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অত্যন্ত আগ্রহী। চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলের এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বন্দর আধুনিকায়ন, সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার ওপর একমত হন।
বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন