অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে এক ধরনের অঘোষিত জরুরি অবস্থা চাপিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশটির ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বানুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে দলটির দুই প্রভাবশালী নেতা সৌরভ ও আশুতোষকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান দীপকে।
নাগপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীপকে প্রশ্ন তোলেন, যন্তর মন্তরের মতো ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ঠিক কোন আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করেছেন।
নয়াদিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শান্তিরক্ষার মুচলেকা ভঙ্গ করা এবং বর্তমান নিয়মে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য অননুমোদিত যন্তর মন্তর এলাকায় অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ ও আশুতোষকে বুধবার পাঁচ দিনের জন্য দিল্লির তিহার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে। পুলিশের অভিযোগ, তারা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে অনুমতি ব্যতিরেকে যন্তর মন্তর চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছিলেন।
নেতাকর্মীদের এই আটকের প্রেক্ষাপটে দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি নরেন্দ্র মোদিকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনি যদি বাস্তবিক অর্থেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে চান, তবে কাপুরুষের মতো আচরণ না করে তা আনুষ্ঠানিকভাবেই ঘোষণা করুন।"
পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি আরও মন্তব্য করেন, এটি অত্যন্ত কাপুরুষোচিত আচরণ যে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করে যন্তর মন্তরে কেবল জাতীয় পতাকা ওড়ানোর দায়ে নাগরিকদের পাঁচ দিন ধরে বিচারিক হেফাজতে আটকে রাখা হচ্ছে। এমন বাস্তবতা ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে জারি করা আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থার সময়েও দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, বর্তমান ভারতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার পরিণামে মানুষকে পাঁচ দিনের জন্য তিহার কারাগারে কাটাতে হচ্ছে। তাই নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, এত বড় কাপুরুষের পরিচয় না দিয়ে সামান্য সাহস প্রদর্শন করতে এবং ইচ্ছা থাকলে জরুরি অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করতে।
রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়ে সিজেপির এই নেতা জোর দিয়ে সতর্ক করেন, নরেন্দ্র মোদি বা অন্য যে রাজনৈতিক শক্তিই চেষ্টা করুক না কেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে প্রধান বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতি নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দীপকে স্পষ্ট করেন, ককরোচ জনতা পার্টি একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র চাপ সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং ভবিষ্যতেও এই স্বকীয় চরিত্র বজায় থাকবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচির বিরোধিতা করছেন। বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন এবং সিজেপির আন্দোলন কার্যত একই লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন