অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি যোগ্য পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে এবং এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করলে তা সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে হবে এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করবেন। মাঠপর্যায়ে এই তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে।
ফলে এই কার্ড পাওয়ার জন্য সাধারণ নাগরিকদের কোনো ধরনের তদবির বা অফিসে অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হতে তিনি সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিগত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যা বলে, তা বাস্তবায়নে আন্তরিক চেষ্টা চালায়। নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং আজ সেই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। একইভাবে কৃষক কার্ড দেওয়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, টাঙ্গাইল থেকেই প্রধানমন্ত্রী সেই উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা চালু হয়েছে এবং মন্দিরের পুরোহিতদের জন্যও সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত মাসের মাথায় নির্বাচনের প্রতিটি ওয়াদা একে একে পূরণ করে যাচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এমনকি কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে বেহেশতের টিকিট বিক্রির মতো কথাও বলেছেন। এসব বিষয়ে নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে বাস্তবসম্মত কাজের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের সামগ্রিক উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সম্পূর্ণ তৎপর থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন তৈরি না হতে পারে, সে জন্য গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হক সানু। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়ার সভাপতিত্বে এই সভা সম্পন্ন হয়।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশনস) মো. আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে উপজেলা মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত চালের ডিও সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপগুলোর অনুকূলে পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ করা আর্থিক অনুদান বিতরণ কার্যক্রমেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন