অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ সহায়তা পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার এবং যে আটটি শর্তের কারণে তালিকা থেকে বাদ পড়তে হবে, সেই মানদণ্ড চূড়ান্ত করেছে সরকার। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী পরিবারভিত্তিক মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম একযোগে শুরু হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি করা ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর আলোকে সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়। দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমেও এই কর্মসূচির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে নাম অন্তর্ভুক্তির নামে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই। ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কেউ টাকা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে গ্রামীণ চরম হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্য থাকা পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামী পরিত্যক্ত নারীপ্রধান পরিবার বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ে রয়েছে এমন পরিবার, প্রত্যাগত নারী অভিবাসী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবারগুলো তালিকার শীর্ষে থাকবে। মাটির ঘর, পাটকাঠি বা বাঁশের বেড়ার ঘরে বসবাসকারী এবং দিনমজুর বা কৃষি শ্রমিক পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যাদের কোনো কৃষিজমি নেই এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বসতভিটা রয়েছে, তারাও ভূমিহীন হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলের সুপারিশ বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে নির্ধারিত নির্দেশিকায় আটটি সুনির্দিষ্ট বহির্ভুক্তি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যার যেকোনো একটি প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
প্রথমত, সরকার নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া পরিবার এ সুবিধা পাবে না।
দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান, তবে তিনি বাদ পড়বেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীদের পরিবারও এ সুবিধার বাইরে থাকবে।
তৃতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসর সুবিধা ভোগ করলে কার্ড মিলবে না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারীরা এ শর্তের আওতামুক্ত থাকবেন।
চতুর্থত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে অথবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় বা স্থায়ী আমানত থাকলে সুবিধা পাওয়া যাবে না।
পঞ্চমত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-তে নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে কার্ড দেওয়া হবে না। এর মধ্যে সিএনজি, পেট্রোলচালিত অটোরিকশা, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ষষ্ঠত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ ব্যবসা ও লাইসেন্স থাকলে তারা বাদ পড়বেন।
সপ্তমত, পরিবারের কোনো সদস্যের করযোগ্য আয় থাকলে এবং তিনি নিয়মিত করদাতা হলে ওই পরিবার সুবিধা পাবে না।
অষ্টমত, বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে এবং পাঁচ লাখ টাকার বেশি বাজারমূল্যের কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক সম্পত্তি থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বিবেচিত হবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, একই পরিবারের একাধিক সদস্য কোনোভাবেই তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না।
বর্তমানে চালু থাকা অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীরা, যারা নতুন সমন্বয়ের আওতায় আসবেন না, তারা এই কর্মসূচির বাইরে থাকবেন। সরকারি কেন্দ্রীয় একক তথ্যভান্ডার বা সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে যাচাইয়ের পর কোনো দ্বৈততা ধরা পড়লে তাদের আবেদন বাতিল করা হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
অর্থ বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা বা এমআইএস ব্যবহার করে পাইলটিং কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন, মোবাইল ডিভাইসের আইএমইআই ডাটাবেজ, সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে সুবিধাভোগী যাচাই করা হবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি পাবলিক বা জিটুপি পদ্ধতিতে নগদ অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন