অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার পরিশোধিত ডিজেল আমদানির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চললেও নিজের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এক বার্তায় তিনি জানান, মার্কিন জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বেছে নিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে জ্বালানি ক্রয়ের পেছনে ২৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে। নিজের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে তিনি সঠিক পথেই রয়েছেন এবং তার কাছে সবসময় নিজ দেশের স্বার্থই সবার আগে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব তিনি কোন নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিত্তিতে দিয়েছেন, তা উল্লেখ করেননি। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলোর রুশ জ্বালানি আমদানির মোট ব্যয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের সাথে ট্রাম্পের উল্লিখিত সংখ্যার ঘনিষ্ঠ সামঞ্জস্য পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই মস্কোর সাথে এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার আওতায় রাশিয়া থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় তিন লাখ টন ডিজেল আনবে ওয়াশিংটন, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে আরও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ দেশে পৌঁছাবে।
তবে প্রেসিডেন্টের এই একক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন দেশটির সাতজন প্রভাবশালী সিনেটর।
রোববার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে রিপাবলিকান দলের চারজন এবং ডেমোক্র্যাট দলের তিনজন সিনেটর অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযান চলাকালে রুশ প্রশাসনকে এমন অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা অভিযোগ তোলেন, এই আমদানি ২০২২ সালে পাস হওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন। কারণ বিদ্যমান বিধিমালার আওতায় রুশ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হলে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক কারণ ব্যাখ্যা করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমান প্রশাসন তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।
ট্রাম্পের এই জ্বালানি চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওয়াশিংটনের এই সমঝোতাকে স্পষ্ট দুর্বলতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, মস্কো থেকে জ্বালানি কিনলে তা রাশিয়াকে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত করার বাড়তি আর্থিক শক্তি জোগাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাকে খাটো করবে। তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান।
এর আগে কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার একটি দ্বিদলীয় আইনে স্বয়ং স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ওই আইনে রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস মন্তব্য করেছেন, ডিজেল আমদানির নতুন এই পদক্ষেপ আগের আইনের সম্পূর্ণ বিপরীত।
এনবিসি নিউজকে টিলিস বলেন, তিনি ট্রাম্পের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছেন। তার অভিমত, অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ওয়াশিংটনের উচিত ইরানের জ্বালানি রাজনীতি সামাল দেওয়া এবং ইউক্রেন সংকটের দায় এককভাবে ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর রাখা।
তবে দলীয় সমালোচনার বিপরীতে প্রেসিডেন্টের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হুইপ টম এমার। তিনি জানান, জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যে সাধারণ নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ লাঘব করতেই বিকল্প উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প। এমারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার সাথে এই জ্বালানি চুক্তি মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতা তৈরির কৌশলেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন