অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় চলতি ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। আশঙ্কার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাত্র ছয় মাস আগেও এই অঞ্চলে ১ দশমিক ৯ শতাংশ ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। তবে আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থার কারণে সেই প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির জায়গা দখল করেছে মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা। সংঘাতের ফলে তেল উত্তোলন, সমুদ্রপথে পরিবহন ও সার্বিক জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সাথে দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় পুরো অঞ্চলের বাণিজ্যিক সক্ষমতায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছর এই ধাক্কা সবচেয়ে তীব্র রূপ নিতে পারে ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে, যেখানে অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএমএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে সংঘাতের মূল কেন্দ্র ইরান, দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। উপসাগরীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশ সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদন কমতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত।
তবে এই সার্বিক সংকটের মধ্যেও উপসাগরীয় দেশগুলোর মাঝে একমাত্র ওমানের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এসেছে।
সংস্থাটি আশা করছে, চলতি বছরের এই তীব্র মন্দা কাটিয়ে আগামী ২০২৭ সালে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তবে সেই গতি ফেরাতে হলে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্বের সিংহভাগ জ্বালানি পরিবহনের এই আন্তর্জাতিক নৌপথ অবরুদ্ধ থাকলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং গোটা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলে। ফলে এই সংঘাতের অভিঘাত এখন স্থানীয় সীমানা পেরিয়ে সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গিয়ে পড়ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন