মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা সরকারের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০১:১০ পিএম

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা সরকারের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার অপচেষ্টা কোনো সাধারণ ঘটনা নয় বরং এটি আওয়ামী সন্ত্রাস। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সামনেও তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত চাওয়া হচ্ছে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সমঝোতা বা রিকনসিলিয়েশনের জন্য যারা মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার হতে হবে। যে রাজনৈতিক দল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে চলে গেছে, তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায়নি, বরং তারা এখনো নানা সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ড. ইউনূস কেন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেই কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ। তিনি জানান, শুধু ড. ইউনূস নন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের বিরুদ্ধেও বিদেশে একই ধরনের হেনস্তামূলক আচরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এমন পদক্ষেপ কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, যে দল প্রকাশ্যে দেশের ভেতরে সহিংসতা ও সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে তাদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দুই বছর পরেও দলটির আচরণ দেখে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা নেই কারণ ক্ষমা চাওয়া বা অনুতাপের বদলে তারা এখনো হুমকি ও সহিংসতা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে ধেয়ে এসে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে স্লোগান দেন এবং চিৎকার করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা এ সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও স্লোগান দিতে থাকেন।