জুন ১৯, ২০২৬, ১১:১১ এএম
আসন্ন আগস্ট মাসে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তা করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নানা সুনির্দিষ্ট কৌশলে তারা মাঠ পর্যায়ে দলগতভাবে সংগঠিত ও সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ওদিকে নির্বাচনের পরপরই এতদিন আত্মগোপনে থাকা দলের মধ্যম সারির কিছু নেতা হঠাৎ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং বিদেশ থেকেও কিছু নেতা দেশে ফিরে এলাকায় সম্পূর্ণ চুপচাপ অবস্থান নিচ্ছেন।মাঠের রাজনীতিতে পুনরায় ফেরার কৌশল হিসেবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ ইতিমধ্যেই সারা দেশে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছে।দলীয় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই ডজন নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ জেলা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এক ধরণের সংঘবদ্ধ অপপ্রচার সামনে আরও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার মতো কেউ না থাকায় আওয়ামী লীগ এই সুযোগটি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী জানান যে শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ড. ইউনূস। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর ড. ইউনূসই প্রথম ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে কোনোভাবে বিরক্ত করলে ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্য ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ড. ইউনূস। এছাড়া বাংলাদেশে বড় ধরণের কোনো শাসনতান্ত্রিক সংস্কার আনা, মার্কিন চুক্তি সম্পাদন করা এবং দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকুক এটি ভারত কোনোভাবেই চায় না।
এসব কারণেই ড. ইউনূস ভারতের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছেন এবং ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই আওয়ামী লীগ এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে আবার একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি এবং তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করলে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকবে তবে যুক্তিতর্ক দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত এবং গায়ের জোরে লাগামহীন সমালোচনা করা কোনো গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য নয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন মনে করেন যে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক কৌশলে ফেরার চেষ্টা করবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনীতি করার চেষ্টা করবে। তবে তারা যাই করুক না কেন তা অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যে হতে হবে কারণ কোনো ধরণের হঠকারিতা দেশের সাধারণ মানুষ আর মেনে নেবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন