বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মধ্যে মারামারির দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মারামারিতে জড়ানো ওই দুই শিক্ষক সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের ভেতরে এই ঘটনা ঘটেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি মেয়েসন্তান রয়েছে, যিনি উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রায় ১৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদাভাবে বসবাস করছেন এবং দুজনের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ২০১১ সালের দিকে তারা দুজনই শিক্ষক হিসেবে এই বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন।

প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তাদের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছে এবং সেই বিরোধের প্রভাব কখনো কখনো বিদ্যালয় পর্যন্ত এসে পৌঁছায়। আনুমানিক ১০ থেকে ১২ দিন আগে সেই বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। অন্য শিক্ষকদের দিয়ে তিনিই ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করিয়েছিলেন। এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের মধ্যে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক আরও উল্লেখ করেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দূরত্ব বিরাজ করছে। বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা একেবারেই সমীচীন হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

তবে এই বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগের হলেও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের গোচরে এসেছে। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন যে ওই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকদের কাছ থেকে এ ধরনের অশোভন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত চিঠি পাঠানো হবে।