সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,

বাবার কাঁধে চড়ে কেন্দ্রে আসা আফিয়ার এইচএসসি পরীক্ষায় অনন্য সাফল্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

বাবার কাঁধে চড়ে কেন্দ্রে আসা আফিয়ার এইচএসসি পরীক্ষায় অনন্য সাফল্য

ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে অদম্য মনোবল নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন আফিয়া জিন্নাত। তিনি নিজে হাঁটতে পারেন না, এমনকি হাত দিয়ে লিখতে গেলেও তীব্র সমস্যা হয়। প্রতিদিনের সব কাজকর্মের মতোই পড়ালেখা ও কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাকে অন্যের আশ্রয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়েছে।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলে মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে আফিয়া জিপিএ ৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট অর্জন করে কৃতকার্য হয়েছেন। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও মোছা. মুর্শিদা বেগম দম্পতির সন্তান আফিয়া। তিনি গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

পরীক্ষাকেন্দ্রে তাকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল পরম মমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। গৌরীপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বাবার মোটরসাইকেলে চেপে আসার পর নির্ধারিত আসনের কক্ষে পৌঁছাতে আফিয়াকে যেতে হতো বাবার কাঁধে চড়েই।

এর আগে খলতবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি সাফল্যের সাথে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পাস করেছিলেন।

পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আফিয়া জিন্নাত জানান, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক স্বপ্ন রয়েছে তার। শারীরিক সব প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ জীবনে বড় কিছু করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান।

আফিয়ার এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় মা-বাবার ত্যাগ ও অধ্যবসায় ছিল অসাধারণ। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা তীব্র শীতের কুয়াশাকে উপেক্ষা করে মেয়েকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে প্রতিদিন নিয়মিত কলেজে নিয়ে গেছেন মা মুর্শিদা বেগম।

তিনি জানান, তার মেয়ে কখনো কলেজ কিংবা প্রাইভেট ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেনি। নিজের তীব্র ইচ্ছাশক্তির কারণেই মেয়েটি আজ এই পর্যন্ত এসেছে এবং পরিবার থেকেও তার স্বপ্নপূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

মেয়ের পড়ালেখার সুবিধার্থে দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন বাবা আব্দুল ওয়াদুদ।

তিনি উল্লেখ করেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের অনুমতি সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রশাসনিকভাবে তাকে নানা বেগ পোহাতে হয়েছে।

তিনি জানান, মেয়ের এই অবিচল ইচ্ছাশক্তি তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায় এবং জীবনের এই কঠিন যুদ্ধে আফিয়া যেন চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারে, সেজন্য তিনি সবার কাছে আন্তরিক দোয়া চেয়েছেন।