নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে ওই শিক্ষকের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুপুরে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের নিজস্ব পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই অনৈতিক ও অশালীন আচরণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঘিরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে গত ১৯ অক্টোবর তাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে প্রশাসন।
একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি ঘটনার বিশদ অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং গত ২৯ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ী অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষার মান বজায় রেখে আসছে। একজন শিক্ষকের এমন আচরণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় তারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নজরুল ইসলাম বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় তদন্তের পর তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটেনি, বরং শিক্ষকের নিজস্ব কোচিং সেন্টারে ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেন যে গত ১৯ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিল। সেই তদন্ত প্রতিবেদন ২৯ অক্টোবর জমা পড়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন