রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
রমজানের স্বাস্থ্য প্রস্তুতি

রমজানের প্রস্তুতি শুরু হোক ১০০ দিন আগে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

রমজানের প্রস্তুতি শুরু হোক ১০০ দিন আগে

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো প্রায় ১০০ দিন বাকি থাকলেও শেষ মুহূর্তের শারীরিক ও মানসিক জটিলতা এড়াতে এখন থেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসা ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হঠাৎ করে সবকিছু বদলে ফেলার মানসিকতা শরীর ও মনের ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং ইবাদতের রুটিনে এখন থেকেই অল্প অল্প করে পরিবর্তন আনলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে রোজা পালনের প্রস্তুতি অনেক সহজ ও সহনীয় হয়ে ওঠে।

দুবাইয়ের এনজিএসের ইমাম ও ধর্মীয় আলোচক শেখ আয়াজ হাউজে জানান, রমজানের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ করে সব ধরনের ধর্মীয় অভ্যাসে রূপান্তরের চেষ্টা না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া সমীচীন। এখন থেকেই ওয়াক্তমতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, নিয়মিত পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত এবং ইস্তিগফারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অসুস্থতা, সফর কিংবা নারীদের ঋতুস্রাবজনিত কারণে বিগত বছরের কোনো রোজা কাজা থাকলে, তা নতুন রমজান আসার আগেই আদায় করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের সময়সূচিতে ধীরে ধীরে ভারসাম্য আনার ওপর জোর দিয়েছেন দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল মডার্ন হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বপ্না মেরি জন।

তিনি জানান, খাবারের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা, অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নাশতা বাদ দেওয়া এবং গভীর রাতে ভারী খাদ্যগ্রহণ পরিহার করা উচিত। যারা নিয়মিত অতিরিক্ত চা বা কফি পান করেন, তাদের ধীরে ধীরে ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা কমাতে হবে, অন্যথায় রোজার শুরুতে তীব্র মাথাব্যথা, অবসাদ ও মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। সেহরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার সময়সূচিতে এখন থেকেই কিছুটা সমন্বয় আনা দরকার।

খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের সেহরিতে ওটস, লাল আটার রুটি, ডিম, মিষ্টিহীন দই, শিমজাতীয় খাদ্য ও পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখার সুপারিশ করেছেন তিনি। ইফতারে ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয় ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রোজার প্রস্তুতিতে শরীরচর্চা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন দুবাইয়ের এনএমসি স্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিদ্ধার্থ জয়মোহন উন্নিথান।

তিনি উল্লেখ করেন, সাইকেল চালানো, দ্রুত হাঁটা বা হালকা শক্তিচর্চা অব্যাহত রাখা নিরাপদ হলেও হঠাৎ করে ব্যায়ামের মাত্রা তীব্র করা যাবে না। রমজানের সময় ইফতারের ঠিক আগে হালকা শারীরিক কসরত অথবা ইফতার শেষ করার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর পরিমিত শরীরচর্চা করা সবচেয়ে উপযোগী।

দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী এবং শারীরিক জখমে ভোগা ব্যক্তিদের রোজা শুরুর আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থাপত্র ঠিক করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রোজা রাখা অবস্থায় হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনকে স্বাভাবিক ক্লান্তি ভেবে অবহেলা না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসার শরণাপন্ন হতে হবে।