বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,

নবীজিকে ভালোবাসার উপায় ও ইমানের পূর্ণতা অর্জনে পাঁচটি বিশেষ আমল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১০:৫০ এএম

নবীজিকে ভালোবাসার উপায় ও ইমানের পূর্ণতা অর্জনে পাঁচটি বিশেষ আমল

ছবি: Ai

নবীজিকে ভালোবাসার উপায় অনুসন্ধান করা এবং তা দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করা প্রতিটি মুমিনের জন্য ইমানের মৌলিক দাবি। পৃথিবীতে মানুষ বহুজনকে ভালোবাসে, কিন্তু একজন প্রকৃত বিশ্বাসীর হৃদয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার আসন হতে হবে সবার ওপরে। তিনি মানবজাতির জন্য আল্লাহর প্রেরিত রাসুল ও মানবচরিত্রের সর্বোচ্চ আদর্শ। তার মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর বাণী লাভ করেছে, সত্য ও অসত্যের পথ চিনেছে এবং ঐশী সন্তুষ্টি অর্জনের সঠিক পথনির্দেশ পেয়েছে।

তবে রাসুলের প্রতি ভালোবাসা কেবল মৌখিক দাবি কিংবা ক্ষণিক আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলে না।

প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নবীজির সুন্নাহর বাস্তব অনুসরণ, নিয়মিত দরুদ ও সালাম পেশ, তার অনুপম চরিত্র ধারণ, দ্বীনি শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে মহানবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি তুলে ধরা হলো।

প্রথমত, নবীজির সুন্নাহ অনুসরণ করে ভালোবাসাকে সরাসরি আমলে রূপান্তর করতে হবে। ইবাদত থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন, ব্যবসায়িক লেনদেন, সামাজিক আচরণ, মানবাধিকার রক্ষা এবং মানবিক সদ্গুণ—প্রতিটি ক্ষেত্রে তার জীবনাদর্শ মেনে চলা আবশ্যক। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, রাসুলকে অনুসরণের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর ভালোবাসা পেতে পারে এবং পাপমুক্তির সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। নিয়মিত সালাত কায়েম, সত্যবাদিতা, আমানত রক্ষা ও অসৎ পথ বর্জনের মাধ্যমেই সুন্নাহর আসল দাবি পূরণ হয়।

দ্বিতীয়ত, প্রিয়নবীর প্রতি সর্বাধিক দরুদ ও সালাম পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

সুরা আল-আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে মুমিনদের প্রতি বিশেষভাবে রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠানোর নির্দেশ এসেছে। সহিহ মুসলিমের ৪০৮ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর দশবার বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন। তাই প্রার্থনায়, সালাতের মধ্যে এবং তার পবিত্র নাম উচ্চারণের সাথে সাথেই আন্তরিকভাবে দরুদ পাঠ করা অপরিহার্য।

তৃতীয় উপায় হলো মহানবীর অনুপম চরিত্র নিজের জীবনে ধারণ করা।

হযরত আয়েশা (রা.)-কে নবীজির চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কুরআনই ছিল তার চরিত্র (সহিহ মুসলিম ৭৪৬)। সুরা আল-কলমের ৪ নম্বর আয়াতেও তাকে মহান চরিত্রের অধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মানুষের সঙ্গে কোমল সুরে কথা বলা, ক্রোধ সংবরণ করা, অপরের অপরাধ ক্ষমা করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমেই এই ভালোবাসার সত্যতা প্রমাণ করতে হয়।

চতুর্থত, নবীজির রেখে যাওয়া দ্বীনি শিক্ষা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।

সহিহ বুখারির ৩৪৬১ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, তার পক্ষ থেকে একটি বাণী জানা থাকলেও তা যেন অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে কোনো ধরনের অতিরঞ্জন বা ভুল ব্যাখ্যা ছাড়া কুরআন ও নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোকেই এই দাওয়াত উপস্থাপন করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের হাদিস শেখানো কিংবা সুন্দর আচরণের মাধ্যমে দ্বীনের সৌন্দর্য তুলে ধরা এর অন্যতম মাধ্যম।

পঞ্চমত, রাসুলকে নিজের সত্তা ও পরিবারের চেয়ে অধিক ভালোবাসা এবং তার আনুগত্যে অবিচল থাকা আবশ্যক।

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের অভিন্ন বর্ণনায় রাসুল স্পষ্ট করেছেন, কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না রাসুল তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সমগ্র মানবজাতির চেয়ে বেশি প্রিয় হন। তবে এ ভালোবাসার নামে কোনো মনগড়া বাড়াবাড়ি গ্রহণযোগ্য নয়; বরং শরিয়তের সীমারেখায় থেকে নিখাদ সম্মান ও আনুগত্যের মাধ্যমে এই প্রেম প্রকাশ করতে হবে। কিয়ামতের ময়দানে নবীজির সুপারিশ ও আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে হলে তার দেখানো পথেই জীবন পরিচালনা করা একমাত্র সমাধান।