সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

মায়ের কথায় ওঠেবসে স্বামী এমন সমস্যায় সংসার সামলাবেন যেভাবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

মায়ের কথায় ওঠেবসে স্বামী এমন সমস্যায় সংসার সামলাবেন যেভাবে

দাম্পত্য জীবনে অনেক পরিবারেই স্বামী মায়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হলে সম্পর্কের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। দিনের বেশিরভাগ সময় স্বামী মায়ের সঙ্গে কাটালে কিংবা প্রতিটি সিদ্ধান্তে মায়ের মতকে অগ্রাধিকার দিলে স্ত্রীর মনে একাকীত্ব ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি তিক্ততা বা সংঘাতের পথে না গিয়ে বুদ্ধিমত্তা ও সহনশীলতার সাথে পরিবারের শান্তি রক্ষা করার কার্যকর কৌশল অবলম্বন করা জরুরি।

স্বামী কার পেছনে কতটা সময় ব্যয় করছেন তা নিয়ে অনবরত দুশ্চিন্তা করলে মানসিক অস্থিরতা বাড়ে।

পারিবারিক বোঝাপড়া অটুট রাখার দায়িত্ব পরিবারের প্রতিটি সদস্যের। সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে একান্তে ক্ষোভ পুষে না রেখে পরিবারের সবার সাথে উন্মুক্ত আলোচনায় বসা উচিত, যা দূরত্ব দূর করতে সহায়তা করে।

শাশুড়ির কোনো আচরণ বা মন্তব্যে কষ্ট পেলে সরাসরি বিনয়ের সাথে কথা বলাই শ্রেয়।

যদি নিজে সরাসরি বলতে দ্বিধা বা অস্বস্তি থাকে, তবে স্বামীর সাথে শান্তভাবে বিষয়টি আলোচনা করতে হবে। নিজের মাকে কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করে বোঝানো সন্তানের পক্ষে তুলনামূলকভাবে সহজ ও কার্যকর হয়, যার ফলে দুজনের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

সংসারে অশান্তি এড়ানোর ভয়ে অনেক নারী নীরব থেকে সবকিছু সহ্য করতে থাকেন।

মুখ বুজে অবিচার সহ্য করলে মনের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভের জন্ম নেয়, যা পরবর্তীতে গভীর দাম্পত্য সংকটের কারণ হতে পারে। তাই নিজেকে অবহেলা না করে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তির প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

শাশুড়ির সাথে দূরত্বের বদলে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা যেতে পারে।

তাকে কিছুটা সময় দেওয়া, একসাথে বাইরে বেড়াতে যাওয়া কিংবা তার পছন্দের কোনো উপহার উপহার দেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কের শৈথিল্য দূর হয়। বিশেষ করে শাশুড়িকে এই আন্তরিক বার্তা দেওয়া দরকার যে, মা ও সন্তানের মাঝে কোনো বিভেদ তৈরি করার উদ্দেশ্য আপনার নেই। শাশুড়ির মনে এই আস্থা ফিরলে পারিবারিক মতবিরোধ অনেকটাই কমে আসে।

একটি মেয়ে নিজের পরিচিত পরিবেশ ও শৈশবের বাড়ি ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিবারে আসেন।

প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব কিছু প্রথা, অভ্যাস ও পরিবেশ থাকে। ফলে শুরুতেই সবকিছু নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে এমনটি ধরে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। আবার প্রথম থেকেই শাশুড়িকে প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ ভাবার মানসিকতাও পরিহার করতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে পদক্ষেপ নিলে পারিবারিক জটিলতা এড়িয়ে সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।