অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
সুখের সময়ে কৃতজ্ঞতা ও দুঃখের দিনে ধৈর্যের চর্চা মুমিনের জীবনকে পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে বলে জানিয়েছেন পবিত্র কাবা শরিফের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ। মসজিদুল হারামের সাপ্তাহিক জুমার খুতবায় তিনি অন্তরের প্রশান্তি, সংকটকালে ধৈর্য এবং সৃষ্টিকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর অবিচল আস্থার গুরুত্ব বিশদভাবে আলোচনা করেন।
জীবনের একই ঝড় একজনের মনোবল ভেঙে দেয়, আবার অন্যজনকে করে তোলে আরও দৃঢ়।
খতিব উল্লেখ করেন, বিপুল বৈষয়িক সুযোগ ও সম্পদের মালিক হয়েও অনেকে মনে শান্তি খুঁজে পান না। বিপরীতে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বহু মানুষ তৃপ্তি ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে জীবন পার করেন। এই পার্থক্যের মূলে রয়েছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি নির্ভরতা। আল্লাহকে একমাত্র রিজিকদাতা মেনে তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমেই হৃদয়ে স্থায়ী প্রশান্তি তৈরি হয়।
পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রাদের ২৮ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেবল আল্লাহর স্মরণেই মানুষের অন্তরগুলো প্রকৃত প্রশান্তি লাভ করে। বাহ্যিক ধনসম্পদ কখনোই মানসিক শান্তির একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না।
খুতবায় মুমিনের মূল সৌন্দর্য হিসেবে শোকর ও সবরের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।
শায়খ সালেহ ব্যাখ্যা করেন, সবর বা ধৈর্য মানে শুধু কষ্ট সহ্য করা নয়; বিপদের মুখেও নীতি ও আস্থায় অটল থাকাই আসল সবর। একইভাবে মুখে আলহামদুলিল্লাহ বলার পাশাপাশি প্রাপ্ত নিয়ামতকে সৎ ও জনকল্যাণমূলক কাজে লাগানোই হলো শোকর।
এ প্রসঙ্গে সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখের পরিস্থিতি তৈরি হলে সে কৃতজ্ঞতা জানায়, যা তার জন্য মঙ্গল বয়ে আনে; আর দুঃখ-কষ্টের মুখে পড়লে সে ধৈর্য ধারণ করে, যা তার আত্মিক কল্যাণ নিশ্চিত করে।
খুতবায় অন্যায় পরিহার এবং দ্রুত তওবার গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে সুরা আল-ইমরানের ১৩৩ নম্বর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে প্রতিপালকের ক্ষমা এবং আসমান-জমিনব্যাপী বিস্তৃত জান্নাতের দিকে মুত্তাকিদের দ্রুত ধাবিত হওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ঈমানের দুর্বলতা হিংসা, অহংকার ও অতৃপ্তি বাড়ায়। অন্যদিকে দৃঢ় ঈমান হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করতে দেয় না।
খুতবায় ইসলামের প্রথম যুগের সাহসী নারী আতিকার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলা হয়, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকলে পার্থিব কোনো প্রতিকূলতাই মুমিনের ক্ষতি করতে পারে না।
সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফের নির্দেশনার আলোকে খতিব স্মরণ করিয়ে দেন যে প্রাচুর্য মানে অধিক সম্পদের মালিকানা নয়, বরং প্রকৃত প্রাচুর্য হলো অন্তরের তৃপ্তি। জীবনের পথচলায় প্রাপ্তি ও সংকটের আবর্তে নিয়মিত স্মরণ, সৎকাজ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই মানুষকে আত্মিক শান্তির সন্ধান করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন