সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মামলা করায় বাদীকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দায়ের করা পিটিশন মামলায় ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে এই মামলা দায়ের করেন এক ফ্যাশন ডিজাইনার।

আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি আমলে নেন এবং আগামী ২৩ নভেম্বর তানজিন তিশাকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ জারি করেন।

বাদীর আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পূর্বে দণ্ডবিধির প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের ধারায় একটি মামলা করেছিলেন বাদী। সেই মামলা করার পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া শুরু হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাদীর মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে বলা হয় যে তার পেছনে লাগলে তিনি বাঁচতে পারবেন না এবং অকথ্য ভাষায় তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৫ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন জানান বাদী। আদালত সেই নারাজি মঞ্জুর করে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনটি পুনরায় অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

বাদীর দাবি, তদন্তের এই নতুন নির্দেশনার পর অভিযুক্ত পক্ষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তার কর্মস্থলে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পাঠিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এবং স্থানীয় থানা পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী ন্যায়বিচার পেতে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই নতুন পিটিশন মামলা করেন।

মূল ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, রাজধানীর গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনারের একটি ফ্যাশন হাউস ও পোশাকের স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার কথা বলে সেখান থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিশেষ শাড়ি নেন তানজিন তিশা। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার শর্ত থাকলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে শাড়িটি ফেরত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠানো হলে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দুটি পৃথক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেখা হলেও শাড়িটি ফেরত দেননি অভিনেত্রী। একপর্যায়ে মেসেঞ্জারে ফোন করে বাদীকে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। পরে গত ২৫ মে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা মেলেনি মর্মে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, যা বাদীর আপত্তির মুখে বর্তমানে সিআইডির অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে।