অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর বাদীর নারাজি আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে মামলাটির সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির দিন বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন এবং পরবর্তীতে সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী নারাজির দরখাস্ত করেছিলেন। বিচারক সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০২৫ সালের ১০ মে পিবিআই আদালতে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।
পিবিআইয়ের তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী পেশায় একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং রাজধানীর গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে তাঁর ফ্যাশন হাউস ও নিজস্ব স্টুডিও রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুবাদে তানজিন তিশার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তাঁর তৎকালীন গাড়িচালকের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন এবং পরদিনই তা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শাড়িটি ফেরত না পাওয়ায় বিরোধের সূত্রপাত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাদী তিশাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা পাঠান। তবে ব্যস্ততার কারণে তিশা তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাগুলো দেখেননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ১৮ মে একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের দেখা ও কুশল বিনিময় হয়।
এর কিছুদিন পর ফ্যাশন হাউসের ট্রায়াল রুম ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বাদী আবারও শাড়িটি ফেরত দেওয়ার তাগিদ দিয়ে বার্তা পাঠান। জবাবে তিশা শাড়িটির ছবি দেখতে চান এবং জানান যে তাঁর সাবেক চালক সেটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেননি এবং পরবর্তীতে তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যান।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর বাদী ইংরেজি বার্তায় আগের বার্তা দেখতে বলেন এবং হুমকি না দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
এর জবাবে ১০ নভেম্বর তিশা বার্তায় পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিষয় আলাদা রাখার অনুরোধ জানান এবং বিষয়টি তাঁর লোকজন দেখছে বলে উল্লেখ করেন। ওই বার্তার পর বাদী ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে পুলিশ শাড়িটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নিলেও বাদী তা গ্রহণ না করে আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে তিশা দাবি করেন, বাদীর কাছ থেকে অতীতেও তিনি পোশাক নিয়েছিলেন এবং ব্যবহারের পর তা ফেরত দিয়েছেন, যার বিনিময়ে কোনো অর্থ নেননি।
দীর্ঘদিন আলোচনা না থাকায় এবং চালক চলে যাওয়ায় শাড়ির বিষয়টি তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। পরে মামলার খবর পেয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তিনি ডাকযোগে শাড়িটি বাদীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদী অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি এবং বিবাদী শাড়িটি ফেরত পাঠিয়েছেন। এছাড়া বার্তার মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে পিবিআই প্রতিবেদনে আসামিকে দায়মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন