রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

আকামা বা বসবাসের বৈধ অনুমতি, স্থানীয় শ্রম আইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র এক সপ্তাহে সাত হাজার ৯৩৪ জন প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশজুড়ে পরিচালিত যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে আরও ১৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে পরিচালিত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে মোট গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে আকামা সংক্রান্ত জটিলতা, প্রায় পৌনে চার হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা এবং সাড়ে তিন হাজারের মতো শ্রমিকের বিরুদ্ধে নির্ধারিত কাজের নিয়ম ভাঙার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে এক হাজার ৮৮১ জন এবং একই প্রক্রিয়ায় দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাকালে আরও ২২ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে নিয়মবহির্ভূত অভিবাসীদের আশ্রয় প্রদান, অবৈধ কর্মসংস্থান তৈরি কিংবা চলাচলে যানবাহন দিয়ে সহায়তা করার অপরাধে আরও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার প্রবাসীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি নারীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি আইনি যাচাই শেষে নিজ নিজ দেশের পাসপোর্ট বা বৈধ ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ২০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই দফায় ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কোন দেশের নাগরিক কতজন ছিলেন, সে সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি রিয়াদের কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকতে দেশের নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অননুমোদিত প্রবাসীদের বাসস্থান দিলে কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। একই সাথে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অপরাধীদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হতে পারে। এ ধরনের কোনো অনিয়ম নজরে এলে দ্রুত তথ্য জানানোর লক্ষ্যে জনসাধারণের জন্য বিশেষ হটলাইন সেবাও চালু রেখেছে দেশটি।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ