রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ

ওয়াজ মাহফিলের প্রকাশ্য বয়ানে সাংবাদিকদের শারীরিক আক্রমণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ইসলামি বক্তা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এই আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) অধস্তন আদালতে দায়িত্বপালনকারী পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এই নোটিশ পাঠান।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে তাঁর দেওয়া বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান, মানহানি, সরাসরি হামলার হুমকি এবং উসকানি সৃষ্টির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নথিপত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুরের মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদরাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

সেখানে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের তীব্র আক্রমণ করে বলেন, দেশের সাংবাদিকরা অত্যন্ত খারাপ এবং তাদের মারধর করা উচিত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজন তরুণ ব্যক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নিজের দলবল নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের ধারাবাহিক চেইন ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু গণমাধ্যম সেই ইতিবাচক দিক প্রচার না করে তিনি পিস্তল হাতে ছিলেন এমন তথ্য সামনে এনেছে। একই সাথে তিনি সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিকতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন তারা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থে পরিচালিত হয়ে দেশের অগ্রযাত্রার ক্ষতি করতে চায়।

আইনি নোটিশে আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, ওয়াজ মাহফিলে প্রকাশ্যে এই ধরনের হিংসাত্মক বার্তা দিয়ে তিনি নিজে এবং তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের মারধরের যে হুমকি দিয়েছেন, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি চরম ভীতিকর ও অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে।

এই প্রকাশ্য বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতা পেশা ও পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য চরম অবমাননাকর, মানহানিকর এবং তাঁদের সার্বিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।