রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

পদ্মা ব্যারাজে সুবিধা পাবে ৭ কোটি মানুষ, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

পদ্মা ব্যারাজে সুবিধা পাবে ৭ কোটি মানুষ, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

আগামী বছরের জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়সূচি অনুযায়ী বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক কাজের উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়ায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন ও কারিগরি বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, সুদূরপ্রসারী এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রায় সাত কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করবেন।

তিনি এই উদ্যোগকে সরকারের একটি মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প ও অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং পরবর্তী দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পুরো প্রকল্পটির সামগ্রিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে।

নির্বাচনের আড়াই মাসের মাথায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নদী অববাহিকার মানুষের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল ধরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনযাত্রার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থেই এই উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং ২০১৬ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষেই এমন বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব, যা অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হয় না।

প্রকল্পের সুফলের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, এর মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর হবে, বিপুল ফসলি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচসুবিধা নিশ্চিত হবে, পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি ঘটবে এবং মৎস্য সম্পদের টেকসই বিকাশ ঘটবে।

আলোচনা সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ প্রকল্পের বিস্তারিত কারিগরি নকশা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা নদীর ওপর এই সুবিশাল ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই অবকাঠামো গড়ে উঠলে পাবনা ও রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোট ১৯টি জেলার সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যারাজটি কার্যকর হলে বছরে প্রায় আট মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণ ও পরিচালন প্রক্রিয়ায় সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

বর্ষাকালে অববাহিকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে এবং কার্যকর বন্যা ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ব্যারাজটিতে মোট ৭৮টি গেট সার্বক্ষণিক খোলা রাখার ব্যবস্থা রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।