রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

শিশুর খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি বুঝবেন যেভাবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

শিশুর খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি বুঝবেন যেভাবে

শিশুর সুস্থ শারীরিক বৃদ্ধি, বলিষ্ঠ পেশি গঠন, মানসিক বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অটুট রাখতে প্রোটিন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান হিসেবে কাজ করে। বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ বয়সে শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই কেবল পেট ভরানোর উদ্দেশ্যে খাবার না দিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পর্যাপ্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ জোগান থাকা একান্ত প্রয়োজন।

তবে শিশুর দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা বুঝতে শিশুর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক বিকাশ এবং আচরণের কিছু পরিবর্তনের দিকে গভীর নজর রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মধ্যে প্রথম যে সতর্কসংকেতটি দেখা যায় তা হলো ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা।

শিশু যদি মূল খাবারের পরপরই বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে হাত বাড়ায়, তবে বুঝতে হবে তার খাবারে পুষ্টির অপূর্ণতা রয়েছে। মূল খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে না। এ অবস্থা দূর করতে প্রতিদিনের খাবারে ডিম, দুধ, দই, ডাল, পনির, মাছ, মাংস ও ছোলার মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সংযোজন করা উচিত।

দ্বিতীয়ত, খেলাধুলা কিংবা প্রাত্যহিক ছোটখাটো কাজের পর শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত বা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে তার খাদ্যাভ্যাস পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ও পেশির ক্ষয়রোধে প্রোটিন নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। তবে ক্লান্তি অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার কারণেও হতে পারে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো বয়স অনুযায়ী শিশুর প্রত্যাশিত ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়া।

পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবের পাশাপাশি সামগ্রিক ক্যালোরি ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের ঘাটতি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি আটকে দিতে পারে। তাই নিয়মিত বিরতিতে শিশুর শারীরিক অগ্রগতি পরিমাপ করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এমন সংকট স্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

চতুর্থ লক্ষণ হিসেবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতাকে চিহ্নিত করা হয়।

প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে শিশু বারবার সাধারণ সংক্রমণ বা মৌসুমি রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং অসুস্থতা থেকে সেরে উঠতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় ব্যয় হয়। এমন পরিস্থিতি নিয়মিত ঘটলে শিশুর সার্বিক পুষ্টিমান খতিয়ে দেখা দরকার।

পঞ্চম উদ্বেগের বিষয় হলো পেশির দুর্বলতা তৈরি হওয়া, ত্বক বা চুলের স্বাভাবিক সজীবতা নষ্ট হওয়া এবং শরীরের কোথাও ক্ষত হলে তা শুকাতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেওয়া।

পেশির শক্তি কমে যাওয়া কিংবা ওজন হ্রাসের সাথে ত্বকের রুক্ষতা অপুষ্টির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

পুষ্টিবিদরা স্মরণ করিয়ে দেন, শিশুর বয়স, ওজন ও শারীরিক সক্রিয়তা অনুযায়ী প্রোটিনের চাহিদায় ভিন্নতা থাকে। ফলে একই খাদ্যতালিকা সব শিশুর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নয়।

তবে লক্ষণ দেখেই আতঙ্কিত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কৃত্রিম প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত। খাদ্যে প্রোটিনের উৎসগুলোর বৈচিত্র্য রক্ষা করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক সময়ে চিকিৎসকের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করাই শিশুর সুস্থ বিকাশের একমাত্র সঠিক পথ।