অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। অনুকূল পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পেলে এটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হতে পারে `অর্ণব`।
আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির মূল গতিপথ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সমুদ্রে প্রবেশ না করে উপকূলের কাছাকাছি থাকার জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত আবহাওয়া ব্যবস্থাটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি ক্রমান্বয়ে আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের সার্বিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার বহুমুখী প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে ঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। এর প্রধান কেন্দ্র ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন পর্যন্ত জোরালো। তা সত্ত্বেও বিশাল এই মেঘবলয়ের পরোক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর সার্বিক আবহাওয়ায় দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটবে।
আবহাওয়া অফিসের সময়ভিত্তিক পূর্বাভাস বলছে, সম্ভাব্য এই দুর্যোগের প্রভাবে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটতে পারে।
পরবর্তীতে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিস্তীর্ণ জনপদে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগের সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব ধরনের ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে বিচরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া রীতি অনুযায়ী বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করে থাকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীনস্থ এই অঞ্চলের মোট ১৩টি দেশ। এই দেশগুলোর আগে থেকে প্রস্তাব করা নির্ধারিত নামের তালিকা পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম হতে পারে `অর্ণব`। বাংলা এই শব্দটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত, যার আভিধানিক অর্থ সমুদ্র। তবে একই সময়ে আরব সাগরে অবস্থানরত অন্য কোনো আবহাওয়া ব্যবস্থা যদি আগে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তবে নামের ক্রমে পরিবর্তন ঘটতে পারে। `অর্ণব`-এর পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির প্রস্তাবিত নাম রেখেছে ভারত `মুরাসু`, যার অর্থ ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন