অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্ট একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপ চলতি ২০২৬ সালের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনে রূপ নিতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ‘ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন নাইন’ নামের এই নিম্নচাপটি মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে প্রায় ৬৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। মঙ্গলবার বিকেলে এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩৫ মাইল। এটি বুধবারের মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হারিকেনে পরিণত হয়ে মেক্সিকো উপসাগর পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি সত্যি হারিকেনে রূপ নিলে তা হবে গত ১২১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দেরিতে মৌসুমের প্রথম হারিকেন সৃষ্টির বিরল নজির। এর আগে আটলান্টিক মহাসাগরে মৌসুমের প্রথম হারিকেন এত দেরিতে তৈরি হয়েছিল ১৯০৫ সালের ৮ অক্টোবর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ঝড়টি উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে মধ্য উপসাগরীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে। শনিবারের শুরুর দিকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য আঘাতের অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব লুইজিয়ানা থেকে ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডেল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার থেকে সপ্তাহান্ত জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় তিন থেকে ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু জায়গায় বৃষ্টির মাত্রা দশ ইঞ্চিতে পৌঁছাতে পারে। ভারী বর্ষণে আকস্মিক ও নগর বন্যার পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে নদীবন্যার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হারিকেনের তীব্রতা অর্জন করলে ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের দমকা হাওয়া ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ মাইল বেগে বয়ে যেতে পারে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে প্রবল বাতাস, বিপজ্জনক ঢেউ ও প্রাণঘাতী শক্তিশালী স্রোতের সৃষ্টি হবে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, উপসাগরের যে পথ দিয়ে ঝড়টি এগোচ্ছে সেখানে বায়ুপ্রবাহের বাধা কম থাকায় উপকূলে পৌঁছানোর আগেই এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। তবে তীরের কাছাকাছি পৌঁছালে বাতাসের গতি পরিবর্তনের কারণে এটি কিছুটা শক্তি হারাতে পারে। এদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসে একটি পৃথক ক্রান্তীয় ঢেউয়ের কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার দেশটির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
চলতি বছর আটলান্টিক অঞ্চলে হারিকেনের সংখ্যা অস্বাভাবিক কম থাকার পেছনে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশান্ত মহাসাগরে পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি এল নিনো আটলান্টিক অঞ্চলে বায়ুর গতির তারতম্য বা উইন্ড শিয়ার বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে ক্রান্তীয় ঝড় সহজে হারিকেনের রূপ নিতে পারে না। তবে বর্তমান নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করায় যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলজুড়ে দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন