অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ার পাশাপাশি দেশের বাজারেও বড় ধরনের সমন্বয় আনা হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিনিময় দর ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যবান এই ধাতুর দর ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বর বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা, যেখান থেকে আগামীতে সুদের হারের গতিপথ সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত মিলতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম দশমিক চার শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৫৫ দশমিক ৩৪ ডলারে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ডিসেম্বর সরবরাহের গোল্ড ফিউচারের দাম দশমিক ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৮২ দশমিক ৩০ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ জানিয়েছেন, ফ্রান্সের বন্ডবাজারে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজার সংক্রান্ত ক্রমবর্ধনশীল উদ্বেগের ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড কিছুটা নিম্নমুখী হয়। একই সাথে গত এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মার্কিন ডলারের দামও পিছিয়েছে। ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দর কমে আসায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ইউরোপীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন পুরোপুরি তাকিয়ে আছেন ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সেপ্টেম্বর বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের দুর্বল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রকাশের পর চলতি মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর পূর্বাভাস নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা কমেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুসারে, চলতি মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন মাত্র ২২ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার আরেক দফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত সীমিত হয়ে পড়ে, কারণ তখন তহবিলগুলো লাভজনক সুদের দিকে ধাবিত হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা এবং জি-সাত জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণার প্রেক্ষিতে সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কমেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দামও হ্রাস পেয়েছে। স্বল্পমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধির কিছুটা চাপ থাকলেও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড ও সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে টিডি সিকিউরিটিজ। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের একটি নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলারের ঘর অতিক্রম করতে পারে।
আন্তর্জাতিক অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক শূন্য এক ডলারে অবস্থান করছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম দুই শতাংশ কমে এক হাজার ৬৮৭ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম এক দশমিক এক শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৬০ দশমিক ৩৮ ডলারে। দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, মূল্য সংযোজন করসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামের হিসাবে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।
২১ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৭৬০ টাকা, যার ফলে প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে ১৬ হাজার ১১০ টাকা। ফলে ভরিপ্রতি খরচ পড়বে প্রায় এক লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের দাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬০ টাকা, যার ফলে প্রতি ভরির দাম চূড়ান্ত হয়েছে প্রায় এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন