অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
বিলের পানিতে ভেসে থাকা রক্তিম পাপড়ির সৌন্দর্য কেবল দর্শনার্থীদের চোখই জুড়ায় না, বরং গাজীপুরের শ্রীপুরের শতাধিক দরিদ্র পরিবারের আয় ও বেঁচে থাকার নতুন ভরসাও জোগাচ্ছে। বর্ষাকালে বিল থেকে সংগৃহীত লাল শাপলা রোদে শুকিয়ে শুটকি বানিয়ে পাইকারি বাজারে বিক্রি করে নিজেদের সংসারের অভাব দূর করছেন স্থানীয় মানুষ।
শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের ডুমনি ও পারুন্নি বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক নিয়মেই অগণিত লাল শাপলা ফোটে। প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতেই কাঠের ডিঙি কিংবা তালগাছের খোঁয়া নৌকা নিয়ে বিলে বেরিয়ে পড়েন স্থানীয় ডুমনি গ্রামের বাসিন্দারা। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সংগৃহীত শাপলা প্রখর রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এক ধরনের বিশেষ শুটকি। কোনো প্রকার বড় ধরনের পুঁজি ছাড়াই কেবল মেধা ও শারীরিক শ্রমে এই মৌসুমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন অসচ্ছল পরিবারগুলো।
স্থানীয় সংগ্রাহকরা জানান, ভোরে বিলে গিয়ে শাপলা তোলার পর সেগুলো কেটে আলাদা করা হয়। এরপর চটের ওপর রোদে শুকিয়ে বস্তাবন্দি করা হয়। কয়েক দিন পরপর পাইকাররা এসে স্থানীয় বাজার থেকে প্রতি কেজি শাপলার শুটকি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনে নিয়ে যান। দিনে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা শ্রম দিয়ে একেকটি পরিবার পুরো মৌসুমে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয় করতে পারছেন। অনেকে আবার প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের কথা জানিয়েছেন।
শাপলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, আলুর চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ এই শাপলা। এছাড়া অ্যালার্জি, চর্মরোগ, আমাশা ও এসিডিটি নিরাময়েও এটি বেশ ভূমিকা রাখে। শাপলার শুটকিতে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শারীরিক সক্ষমতা ও পুষ্টির জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভোগা মানুষের জন্য এটি আয়রনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
প্রকৃতির এই সহজ দান কেবল বিলের পানিতে ভেসে থাকা কিছু রক্তিম পাপড়ি নয়, এটি ডুমনিগ্রামের শত শত মানুষের কাছে টিকে থাকার এক নীরব বিপ্লব। অভাবের কাছে মাথা নোয়ানোর বদলে সূর্যের তাপ আর শাপলার প্রতিটি খাঁজে তারা বুনে চলেছেন নিজেদের ভাগ্য বদলের নতুন গল্প।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন