অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও নির্ভুল, সুশৃঙ্খল ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের তৃণমূল স্তরে ক্ষমতা ও দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে এই নাগরিক সেবা পরিচালনার চিন্তাভাবনা চলছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও ভুলভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার নির্ভুল পরিসংখ্যান ছাড়া সঠিক রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে জাতীয় খাদ্যের সঠিক চাহিদা নিরূপণ, পুষ্টির চাহিদা পূরণ, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য একটি ত্রুটিমুক্ত ডেটাবেজ থাকা অপরিহার্য।
জন্মনিবন্ধন সনদকে প্রতিটি শিশুর আইনি পরিচিতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সনদের ওপর নির্ভর করেই শিশুর সঠিক জন্মতারিখ, জন্মস্থান, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের পরিচয় এবং জাতীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক এই কাঠামো পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পূর্ববর্তী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১৯৮০ ও ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলোকে সমন্বিত করে একটি যুগোপযোগী ও নতুন গ্রাম সরকার আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নতুন এই আইনি কাঠামোর আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। এর ফলে নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি প্রান্তিক জনগণের হাতের নাগালে চলে আসবে, সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের হয়রানি কমবে এবং কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে কোনো ধরনের ভুয়া বা দ্বৈত এন্ট্রি ঠেকানো সম্ভব হবে। এরই মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য `একক ডিজিটাল আইডি` বা একটি পরিচয় ব্যবস্থা এবং নিজস্ব ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সাথে বিদ্যমান `বিডিআরআইএস` নামক জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পদ্ধতিকে নতুন আঙ্গিকে সংস্কার করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সরকারের সমগ্র ডিজিটাল পরিচিতি কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো এই প্রাথমিক নিবন্ধন ব্যবস্থা, তাই এখানকার তথ্যে কোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে পুরো ডিজিটাল রূপান্তর উদ্যোগটিই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন