বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ আজ রাতে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ আজ রাতে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের প্রথম ধাপের ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। বুধবার রাত আটটার পর নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে এই ফল উন্মুক্ত করা হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে নির্ধারিত সার্ভারে লগইন করে শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল দেখতে পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মনোনয়ন ও প্রাথমিক আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পছন্দের ক্রম অনুযায়ী প্রথম ধাপের স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্বাচিত কলেজে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে এবং আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ২২০ টাকা ফি দিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমের তালিকায় দেওয়ার সুযোগ পান। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মেধার ভিত্তিতে এবারও কোনো পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, চলতি বছর ছাড়াও আগের দুই শিক্ষাবর্ষে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করেছেন। অন্যদিকে বিদেশি শিক্ষাবোর্ড থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এবার শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যেকোনো বিষয় নির্বাচন করতে পারছেন। আবার মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরাও পরস্পরের বিভাগে আবেদনের সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, সংগীত এবং ইসলামী শিক্ষা বিভাগে সব শাখার শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষের আসন বিন্যাসে মোট আসনের ৯৩ শতাংশ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার জন্য। অবশিষ্ট আসনের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য পাঁচ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য দুই শতাংশ সংরক্ষিত কোটা রাখা হয়েছে। তবে কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেই শূন্য আসনগুলো সাধারণ মেধাতালিকা থেকেই পূরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মেধাক্রম নির্ধারণে জটিলতা এড়াতে জিপিএ সমান হলে এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানের নম্বর এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রে ইংরেজি, গণিত ও বাংলার নম্বর পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুল ও কলেজ সংযুক্ত রয়েছে, সেখানে নিজস্ব শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন।

ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক নিশ্চায়ন বাবদ সর্বমোট ৩৪০ টাকা বোর্ড ফি পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি সাত টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা। এছাড়া ঢাকা মহানগরের এমপিওভুক্ত কলেজে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং নন-এমপিও ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ আট হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে অনুমোদনহীন কোনো শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি সরাসরি বাতিল করা হবে।