বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

বিনোদন ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছরের ব্যবধানে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান। ৪১ বছর বয়সে এসে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। সম্প্রতি কানাডায় অনুষ্ঠিত টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে তিনি নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং এই বয়সে আবারও মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। জীবনের এই পরিবর্তনটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতি চারণ করে এই অভিনেত্রী জানান, মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন। তৎকালীন স্বামী আলি আসকারির সাথে দাম্পত্য জীবনে তাঁর প্রথম ছেলে আজলানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে শুরু হওয়া সেই দাম্পত্যের বিচ্ছেদ ঘটে ২০১৫ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে তিনি ব্যবসায়ী সেলিম করিমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সেই দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় তিন বছর পর তাঁদের সংসারে নতুন অতিথি আগমনের বার্তা এলো। চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে তিনি শুধু নিজের আনন্দের খবরই দেননি, পাশাপাশি বিশ্ব চলচ্চিত্রে দক্ষিণ এশীয় গল্প ও স্থানীয় শিল্পীদের প্রাপ্য মূল্যায়নের ওপরও বক্তব্য রাখেন।

তবে সাধারণত নিজের একান্ত ব্যক্তিগত পরিসর আড়ালে রাখতে পছন্দ করায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই খবর জানানো মাহিরার জন্য বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বের ছিল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় লালগালিচায় হাঁটার জন্য মানানসই পোশাক নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবর্তিত শারীরিক রূপ লুকিয়ে না রেখে তা স্বাভাবিকভাবেই সবার সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উৎসবে তিনি অংশ নেন সূক্ষ্ম কারুকাজের একটি গাঢ় রঙের শাড়ি, মানানসই ওড়না ও খোলা বেণির স্নিগ্ধ সাজে।

দুই ভিন্ন বয়সের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার তুলনা টেনে মাহিরা জানান, এবারের পথচলা অতীতের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। ২৪ বছর বয়সে তরুণ বয়সের শারীরিক দৃঢ়তা ও সরল মানসিকতা থাকলেও ৪১ বছর বয়সে এসে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত ব্যস্ত জীবন ও ভ্রমণে অভ্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও এমন অনেক দিন আসে যখন মন সায় দিলেও শরীর পুরোপুরি সঙ্গ দিতে চায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবনের মূল্য ও অনিশ্চয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করায় তাঁর মনে আনন্দের পাশাপাশি এক ধরনের স্বাভাবিক শঙ্কাও কাজ করছে।

অভিনেত্রী জানান, কর্মজীবন, বড় হয়ে যাওয়া ছেলে ও নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সবকিছুই যখন অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই জীবনের এই নতুন মোড় এলো। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন যে জীবনের সব বাস্তবতা আগে থেকে পরিকল্পনা বা নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বরং পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নেয়, তাকে ইতিবাচক মানসিকতায় গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের প্রকৃত শিক্ষা।