বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই আন্দোলনের ফসল অপশক্তি ভোগ করছে: ঢাবি শিক্ষার্থী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

জুলাই আন্দোলনের ফসল অপশক্তি ভোগ করছে: ঢাবি শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন, তা অপসারণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবু তৈয়ব হাবিলদার। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই আন্দোলনের এই সক্রিয় অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আজ একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের দখলে চলে যাচ্ছে।

আন্দোলনের ফসল অপশক্তির হাতে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ছাত্র-জনতার রক্ত ও অমূল্য জীবনের বিনিময়ে যে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হয়েছিল, তার সুযোগ নিয়ে যদি স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষ ও তাদের উত্তরসূরিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হয়, তবে তা আন্দোলনের মূল চেতনার চরম অবমাননা। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের রাজপথে লড়াই করা যোদ্ধাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে রাজাকার কিংবা তাদের সন্তানরা যদি জাতীয় সংসদ বা মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেয়, তবে এই বাস্তবতার কথা আগে জানলে তিনি কখনোই সেই আন্দোলনে যুক্ত হতেন না। 

তাঁর মতে, দলবাজি, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি সাধারণ জনগণকে আজ সচেতনভাবেই কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। ডাকসু ভবনে জিন্নাহর প্রতিকৃতি টানানো প্রসঙ্গে এই শিক্ষার্থী মনে করিয়ে দেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর একতরফা ও বৈষম্যমূলক ঘোষণার জের ধরেই ১৯৪৮ সালের মার্চে রক্তঝরা ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল এবং বহু ছাত্র কারাবরণ করেছিলেন। 

ফলে ডাকসুর সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ইতিহাসে জিন্নাহকে কখনোই সম্মানজনক কোনো স্থানে রাখা হয়নি। ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব নিজস্ব নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে পরিষ্কার প্রতারণা করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কোনো রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি জাতির ইতিহাসের প্রতি অটল দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি ডাকসুর দেয়াল থেকে জিন্নাহর সেই বিতর্কিত ছবি নামিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। 

আবু তৈয়ব প্রশ্ন তোলেন, একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় ইতিহাসের মীর জাফর হিসেবে চিহ্নিত কোনো চরিত্রের প্রতিকৃতি স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সাথে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামী ও দলটির প্রয়াত নেতা গোলাম আযমের ঐতিহাসিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশে কোনো অপশক্তিকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের যে কোনো চেষ্টা রুখে দিতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সচেতন শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানান।