সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
হবু শ্বশুরের কাছে পাওনা কোনো ঋণের টাকাকে কনের মোহর হিসেবে ধরে নিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করার প্রথা সমাজে মাঝেমধ্যে দেখা যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতি কতটা বৈধ এবং সঠিক নিয়মটি কী—তা জানা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কুরআন ও হাদিসের প্রمانিক দলিল এবং ফিকহি মূলনীতির আলোকে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রবীণ আলেম ও ফকিহগণ। বাবার ঋণ মওকুফকে মোহর হিসেবে সাব্যস্ত করা শরিয়তসম্মত নয়।
ইসলামি আইন অনুযায়ী, মোহর হলো একান্তভাবেই স্ত্রীর নিজস্ব হক বা অধিকার, যা সরাসরি শুধু স্ত্রীরই প্রাপ্য। বাবার পক্ষ থেকে থাকা কোনো পূর্বের ঋণ মওকুফের বিনিময়ে তা মোহর হিসেবে চালিয়ে দিলে স্ত্রীর ওপর অর্পিত প্রাপ্য মোহর সঠিকভাবে আদায় হয় না। তবে এই জটিলতা এড়ানোর জন্য শরিয়তে একটি সুন্দর ও বৈধ বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে। তা হলো—প্রথমে স্বামী তার নববিবাহিত স্ত্রীকে তার প্রাপ্য মোহরের সম্পূর্ণ অর্থ নগদ বা অন্য কোনো উপায়ে পুরোপুরি প্রদান করবেন।
এরপর স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় ও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সেই টাকা থেকে তার বাবার ঋণ পরিশোধ করে দেন, তবে একসাথে ঋণও পরিশোধ হবে এবং স্ত্রীর মোহরও যথাযথভাবে আদায় হয়ে যাবে। এই মাসআলার সমর্থনে পবিত্র কুরআন ও প্রামাণ্য হাদিস গ্রন্থ থেকে একাধিক শক্তিশালী দলিল পেশ করা হয়েছে। সুরা নিসার চতুর্থ আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা নারীদের তাদের মোহর হিদায়া বা উপহারস্বরূপ সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান কর। এরপর যদি তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের পক্ষ থেকে তার কিছু অংশ তোমাদের মাফ করে দেয়, তবে তা স্বাচ্ছন্দ্যে ও তৃপ্তিসহকারে ভোগ কর।’
প্রখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘তাফসির মাজহারি’-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেহেতু মোহর হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নারীদের জন্য এক ধরনের দান, তাই তা স্বামীর ওপর ফরজ ও নারীদের অধিকার হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এছাড়া হাদিসের বর্ণনায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো নারীকে এই নিয়তে বিবাহ করে যে সে তার মোহর পরিশোধ করবে না বা আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে ব্যভিচারী হিসেবে উপস্থিত হবে (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)।
পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলিমের মাল তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্যের জন্য হালাল হয় না (বাইহাকি)। ফিকহি মূলনীতি অনুযায়ী, নারীর সম্পূর্ণ সম্পদের ওপর তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত বা আচরণই কার্যকর হয়, কারণ ওই সম্পদের মালিকানা একমাত্র তারই (রদ্দুল মুহতার)। পারিবারিক বা লেনদেনের সহজীকরণের জন্য শরিয়তের নির্ধারিত বিধান লঙ্ঘন করা ইসলামসম্মত নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন