সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ইসলামে ‘মুজাদ্দিদ’ বা সংস্কারক ধারণাটি নিয়ে সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখক আলী হাসান উসামা। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, নির্দিষ্ট কোনো শতাব্দীতে অলৌকিক প্রক্রিয়ায় কেবল একক ব্যক্তিই মুজাদ্দিদ হিসেবে আবির্ভূত হবেন—এমন ধারণার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
সমাজ, শিক্ষা কিংবা শাস্ত্রীয় অঙ্গনে যারা মৌলিক ও যুগোপযোগী কল্যাণকর সংস্কার আনেন, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রের মুজাদ্দিদ হিসেবে গণ্য হওয়ার দাবিদার। মুজাদ্দিদ ধারণার প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন এই চিন্তাবিদ। পডকাস্ট আলোচনায় আলী হাসান উসামা বাংলাদেশের সমকালীন কওমি শিক্ষাঙ্গন ও হাদিস গবেষণার জগতে অসামান্য অবদান রাখা দুই মনীষী—মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ এবং মাওলানা আব্দুল মালেকের অনন্য ভূমিকার কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন।
কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় আরবি ভাষা শিক্ষার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করার ক্ষেত্রে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহর ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অতীতে আরবি ব্যাকরণের প্রাচীন কিতাবসমূহ ফারসি ভাষা ও উর্দু মাধ্যমে অধ্যয়নের কারণে শিক্ষার্থীরা দাওরায়ে হাদিস শেষ করেও সাবলীলভাবে আরবি পড়তে বা বলতে পারত না। এই জটিল বেড়াজাল ভেঙে তিনি ‘মাদানি নেসাব’ প্রবর্তন করেন, যা ইংরেজি মাধ্যমের মতো শিক্ষার্থীদের শুরুতেই আরবি ভাষায় দক্ষ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, হাদিস শাস্ত্রের বিশুদ্ধতা রক্ষা ও সূক্ষ্ম গবেষণার ক্ষেত্রে বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের সংস্কারমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন উসামা। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে একসময় সহিহ ও জয়িফ বা দুর্বল হাদিসের পার্থক্য নির্ণয়ের ধারা বেশ সীমিত ছিল, কিন্তু মাওলানা আব্দুল মালেক দেশে ‘উলুমুল হাদিস’ বা হাদিস শাস্ত্রীয় গবেষণার একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে একদল উচ্চমানের গবেষক আলেম তৈরি করেছেন। সমাজে বহুল প্রচলিত অনেক কথা—যেমন ‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’ কিংবা ‘জ্ঞানের অন্বেষণে চীন যাও’—লোকমুখে হাদিস হিসেবে প্রচলিত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য শাস্ত্রীয় ভিত্তি নেই, যা তিনি জোরালো দলিলের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন