সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্য বাজারে সোনা মিয়া ওরফে সোনাই পাগলা নামের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও জোরপূর্বক মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে অবস্থিত খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে এই ঘটনা ঘটে। পরে নির্যাতনের এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে এই হেনস্তার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সোনা মিয়া জেলার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন কনটেন্ট নির্মাতা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে রানীগঞ্জ বাজারে একটি ব্যাটারিচালিত টমটম থেকে নেমে চায়ের দোকানে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর হামলা চালান রানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. মাখন মিয়া। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সোনা মিয়ার মেহেদী রঙ করা লম্বা চুল কাঁচি দিয়ে জোরপূর্বক কেটে দিচ্ছেন মাখন মিয়া। এ সময় সোনা মিয়া প্রাণভয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধরে ফেলে লাথি মারা হয় এবং পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। ভুক্তভোগী অনুনয়-বিনয় করে চুল না কাটার আকুতি জানালেও তা উপেক্ষা করে চুল কেটে ফেলা হয়।
ঘটনার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোনা মিয়া। তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে দিরাইয়ে মাখন মিয়ার সঙ্গে তাঁর একটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য মুরব্বিরা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার রানীগঞ্জ বাজারে পেয়ে কোনো কারণ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তাঁর চুল কেটে দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত মাখন মিয়া দাবি করেছেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে দিরাইয়ে ডেকে নিয়ে সোনা মিয়াসহ কয়েকজন তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই দীর্ঘদিন পর বাজারে পেয়ে রাগের মাথায় তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে রাগ কমার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন যে বিষয়টি আইনের হাতে তুলে না দিয়ে নিজে আইন তুলে নেওয়া ভুল ছিল এবং ভুক্তভোগী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তিনি তা মোকাবিলা করবেন। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত ছিল না এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন