বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরায়েলের সেনাপ্রধানের সাথে ৬ আরব দেশের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

ইসরায়েলের সেনাপ্রধানের সাথে ৬ আরব দেশের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের সেনাপ্রধান এবং সৌদি আরবসহ অঞ্চলের ছয়টি প্রভাবশালী আরব ও মুসলিম দেশের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে এক নজিরবিহীন যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সপ্তাহে জার্মানিতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আয়োজন করে মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড সেন্টকম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপার আনুষ্ঠানিকভাবে এই যৌথ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এই বৈঠক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বিশেষ সামরিক বৈঠকে ইসরায়েল ছাড়াও অংশ নেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং মিসরের সেনাপ্রধানেরা। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরান পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমন। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর এই প্রথমবারের মতো আরব ও ইসরায়েলি সেনাপ্রধানরা এমন সরাসরি বৈঠকে মিলিত হলেন। যদিও সৌদি আরবের সঙ্গে তেলআবিবের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান নেই, তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক বাস্তবতায় এমন সমন্বয়কে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নিয়ে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে নিজেদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ও কৌশলগত গতিবিধি সম্পর্কে উপস্থিত আরব সেনাপ্রধানদের বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করেন। একই সাথে সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বর্তমানে সেখানে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে তেহরানের বাধার ফলে তীব্র সামরিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

এছাড়া বৈঠকে মার্কিন মধ্যস্থতায় রিয়াদ ও তেলআবিবের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে কীভাবে যৌথ সামরিক গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সৌদি আরবকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করা যায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কার্যকর আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।