সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
মুরগির ডিম উৎপাদনে বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা। সব ধরনের কাঠামোগত বিনিয়োগ হিসাব করে একটি ডিম উৎপাদনে বর্তমানে প্রায় সাত টাকা ৮১ পয়সা খরচ হলেও পাইকারি বাজারে তার দাম পাচ্ছেন না উৎপাদকরা। এ অবস্থায় দেশজুড়ে খামারিদের ব্যবসায়ে টিকিয়ে রাখতে ডিমের একটি নির্দিষ্ট ও লাভজনক মূল্য নির্ধারণে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। সব মিলিয়ে অব্যাহত লোকসানের মুখে খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্মজীবন শেষে অলসতা কাটাতে ও সংসারের বাড়তি আয়ের আশায় পোলট্রি ব্যবসায় এসেছিলেন ষাটোর্ধ্ব এক প্রবীণ খামারি। ২০২০ সালে চূড়ান্ত অবসরে যাওয়ার বছর দুয়েক আগেই তিনি এই খামারটি গড়ে তোলেন। প্রথমে তিনি অংশীদারত্বে মুরগির খাবারের (ফিড) উৎপাদন ও ব্যবসা শুরু করলেও তা বেশি দিন টেকেনি। এরপর নিজের কিছু জমি বিক্রি করে ও জমানো মূলধন দিয়ে মাত্র এক হাজার ৬০০ লেয়ার মুরগি নিয়ে নতুন করে খামার শুরু করেন তিনি। ব্যবসা শুরুর মাত্র তিন বছরের মাথায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার বিশাল লোকসানের মুখে পড়লেও তিনি ব্যবসা গুটিয়ে না নিয়ে নিজস্ব চেষ্টায় খামার টিকিয়ে রেখেছেন।
ক্ষুব্ধ এই খামারি অভিযোগ করেন, পোলট্রি খাতে রীতিমতো সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তৈরি করে তৃণমূল খামারিদের ঠকানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে খামারের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে তিনি দেখেছেন, মুরগির ঘর, জমি ও খাঁচাসহ সব ধরনের বিনিয়োগ মিলিয়ে একটি ডিম উৎপাদনে অন্তত সাত টাকা ৮১ পয়সা খরচ হয়। তবে মুরগির ডিম দেওয়ার হার বা পার্সেন্টেজ বেশি থাকলে এই উৎপাদন খরচ সামান্য কমে সাত টাকা ৩০ বা ৪০ পয়সায় নামতে পারে। বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় এই ন্যূনতম খরচের তুলনায় কোনোভাবেই ন্যায্য দাম মিলছে না বলে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে, লোকসানের মধ্যেও খামারের পরিবেশ ঠিক রাখতে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছেন। মুরগির বিষ্ঠা পচে যেন দুর্গন্ধ ও গ্যাস ছড়াতে না পারে, সে জন্য তিনি বিশেষ নালা তৈরি করে পানির নিচে বিষ্ঠা জমার নিরাপদ ব্যবস্থা করেছেন। একই সাথে এই পচনশীল বিষ্ঠা ব্যবহার করে একটি বড় আকারের বায়োগ্যাস প্লান্টও বসিয়েছেন তিনি।
এই নিজস্ব প্লান্ট থেকে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা রান্নার কাজ চলছে। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করে দিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এই খামারি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন