বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাশরুম চাষে সফল নারী মাসে আয় করছেন লাখ টাকা

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

মাশরুম চাষে সফল নারী মাসে আয় করছেন লাখ টাকা

স্বামী বিদেশ থেকে ফিরে বেকার হয়ে পড়ায় দুই ছোট সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে চলছিল সংসার। বাধ্য হয়ে দর্জির কাজ করলেও তাতে ভরসা পাচ্ছিলেন না এক নারী। অবশেষে একটি প্রশিক্ষণ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, মাশরুম চাষ করে বর্তমানে তিনি মাসে এক লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। দীর্ঘ অভাবের পর সফলতার মুখ দেখা এই নারী এখন নিজ এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি জানান, এক মাসে তিনি সর্বোচ্চ এক লাখ তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছেন। তার এই সাফল্যে পরিবারের ছোট-বড় সবাই অত্যন্ত আনন্দিত।

অভাবের তাড়নায় একসময় বিদেশে থাকা ভাগ্নের কাছে মূলধনের জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। এরপর বড় বোনের পরামর্শে পাপিয়া আপা নামের এক উদ্যোক্তার কাছে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নেন। শুরুর দিকের সংগ্রাম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে খামার দাঁড় করাতে পাপিয়া ও তার স্বামী সরাসরি হাতে-কলমে সাহায্য করেছিলেন। তবে প্রথম দিকে উৎপাদিত মাশরুম ও বীজ বা স্পন বিক্রি করতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়। তখন পাপিয়া ও ফিরোজা ম্যাডাম নামের দুই নারী তাকে পণ্য বিক্রিতে সহযোগিতা করেন।

খামার করতে গিয়ে বড় একটি বিপর্যয়ের মুখেও পড়েছিলেন তিনি। একবার খামারে ‍‍`গোলাপি ফাঙ্গাস‍‍` ছড়িয়ে পড়লে তার প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার স্পন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। প্রতিদিন ফজরের আজানের পর থেকে রাত একটা পর্যন্ত একটানা কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি। অতিরিক্ত পরিশ্রমে অনেক সময় শারীরিক ক্লান্তি আসে, কাজ ছেড়ে দিতে মন চায়। কিন্তু পুরো পরিবারের আর্থিক নির্ভরতা তার ওপর থাকায় তিনি পিছু হটেন না।

বর্তমানে তিনি এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছেন যে, অন্য খামারিরাও তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। তার তৈরি স্পন সহজে নষ্ট হয় না। অন্যান্য খামারির তুলনায় তিনি বাড়িতে বসেই বেশি দামে নিজের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। নিজের আয়ের টাকায় চাল-ডাল কিনে সংসারের বাজার করতে পারার তৃপ্তি তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি এ পর্যন্ত তিনি আরও অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জনকে এই কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করেছেন।