সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
নাটোরের বড়াইগ্রামে সমতল ভূমিতে পাহাড়ি ফল আনারসের বাণিজ্যিক চাষ করে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন রফিকুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় কৃষক। উপজেলার মল্লিকপুর বিলে নিজের জমিতে ফলানো এসব পাকা আনারস বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ভালো দামে বিক্রি করছেন তিনি। সমতলের মাটিতে উৎপাদিত এই ফলগুলো আকারে মাঝারি এবং স্বাদে বেশ মিষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও কৃষি উদ্যোক্তারা বাগানটি দেখতে আসছেন। সমতলের মাটিতে পাহাড়ি ফলের এই ফলন এলাকায় সাড়া ফেলেছে।
মল্লিকপুর বিলে ১০ কাঠা জমিতে ‘ক্যালেন্ডার’ ও ‘জায়েন্ট কিউ’ জাতের আনারস চাষ করেছেন রফিকুল। বছর তিনেক আগে বাজারে আনারস কিনতে গিয়ে তার মনে সমতলে এই ফল চাষের আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর প্রায় দেড় বছর আগে টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চল থেকে তিনি দেড় হাজার আনারসের চারা সংগ্রহ করে এনে রোপণ করেন। চারা রোপণের এক বছর পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ফল ধরার চার থেকে পাঁচ মাস পর তা পরিপক্ব হয়। শুরুতে কিছু চারা মারা যাওয়া এবং কিছু গাছে ফল না এলেও বর্তমানে অন্তত এক হাজার গাছে ফলন এসেছে।
আনারস চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও রফিকুলের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও এসেছে। চারা ক্রয় ও পরিবহন বাবদ তার খরচ হয়েছিল ছয় হাজার টাকা। এছাড়া চার দফা নিড়ানিতে ছয় হাজার, সার ও কীটনাশক বাবদ দেড় হাজার এবং সেচ কাজে খরচ হয়েছে ৬০০ টাকা। রোপণের শুরুর দিকে গাছে গোড়া পচা রোগ দেখা দিলে কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ফসল পাকার পর রাতের আঁধারে বাগান থেকে শতাধিক আনারস চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এ পর্যন্ত বাগান থেকে ৫০ টাকা দরে ৫০০টি আনারস বিক্রি করে ২৫ হাজার টাকা ঘরে তুলেছেন তিনি। ক্ষেতে এখনো তিন শতাধিক ফল বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। আনারসের গাছ থেকে টানা কয়েক বছর ফল পাওয়া যায় বলে পরবর্তী মৌসুমগুলোতে নতুন করে চারা লাগানোর খরচ থাকবে না, ফলে আগামীতে লাভের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদী এই চাষি। তার সফলতা দেখে গোপালপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ভরতপুর গ্রামের আকবর আলীসহ আশপাশের বহু কৃষক বাগান পরিদর্শন করে এই ফলের মিষ্টি স্বাদের প্রশংসা করেছেন এবং নিজেরাও চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ জানিয়েছেন, বড়াইগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের সম্পূর্ণ অনুকূল বলেই মাঠপর্যায়ের ফলাফলে প্রমাণিত হচ্ছে। প্রাথমিক উদ্যোগেই এই সাফল্য আসায় স্থানীয় আগ্রহী কৃষকদের আনারস চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন