বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
সমুদ্রবিজ্ঞান

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল স্বর্ণ-রুপার সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল স্বর্ণ-রুপার সন্ধান

ছবি: Ai

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে অত্যন্ত উচ্চ ঘনত্বের স্বর্ণ ও রুপার বিরল এক খনিজভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রের তলদেশে উত্তপ্ত তরল নির্গমন অঞ্চলে পরিচালিত এক গবেষণায় এই ধাতব মজুত শনাক্ত করা হয়। গবেষকদের যৌথ দলটি জানিয়েছে, সেখানে মূল্যবান এই দুই ধাতুর ঘনত্ব এতটাই বেশি যা সাধারণ সমুদ্রতলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। স্থলভাগের সাধারণ আকরিকের চেয়েও এতে ধাতুর মাত্রা বেশি।

চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও সামুদ্রিক ভূতত্ত্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাংহাই চিয়াও থং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য এসেছে। সমুদ্রের তলদেশে শঙ্কু আকৃতির তিনটি সুবিশাল সালফাইড স্তরের সন্ধান পেয়েছেন তারা। সাধারণত সমুদ্রের তলদেশীয় এসব স্তরে তামা, দস্তা ও সিসার পরিমাণ বেশি থাকলেও এবারের সংগৃহীত নমুনায় স্বর্ণ ও রুপার উপস্থিতি মিলেছে অনেক বেশি পরিমাণে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিকে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৪৫ ট্রয় আউন্স স্বর্ণ এবং ৩৬ দশমিক ৩ ট্রয় আউন্স পর্যন্ত রুপা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিকে ১৫ দশমিক ৪ গ্রাম স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রুপার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গবেষক দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি জানিয়েছেন, সমুদ্রতলের বিশাল এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিজ্ঞানীদের দাবি, অঞ্চলটিতে থাকা বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজ মজুতের সমকক্ষ হতে পারে। গত ১০ আগস্ট দেশটির শেনজেন বন্দর থেকে গবেষণা জাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে ১৮ দিনের এই বিশেষ অভিযানটি শুরু হয়েছিল। গভীর সাগরে অনুসন্ধানের সময় বিশেষ ডুবযানের মাধ্যমে মোট সাতবার সমুদ্রের তলদেশে নেমে নমুনা সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা।

জাহাজটির গতিবিধি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিযানের সময় জলযানটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব এবং ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমায় চলাচল করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, খনিজসমৃদ্ধ এই অববাহিকাটি দেশটির নিজস্ব একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যদিও নিরাপত্তার কারণে সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। তবে গভীর সমুদ্রের তলদেশ থেকে এ ধরনের মূল্যবান ধাতু উত্তোলনের পরিবেশগত মারাত্মক ঝুঁকি ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।