সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
ঘুম ভাঙার পর এক কাপ চায়ে চুমুক দেওয়া, নাশতা না খেয়ে দ্রুত কাজে বের হওয়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ মুঠোফোনে সময় কাটানো অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। আপাতদৃষ্টিতে এসব আচরণকে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রতিদিনের এই অনিয়ম মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। খাদ্য উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করার বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য নিষ্কাশনসহ বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করে লিভার। প্রাথমিক পর্যায়ে লিভারের ক্ষতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
ওজন কমানোর তাগিদে কিংবা নিয়মবহির্ভূত উপবাসের কারণে অনেকেই নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেন। রাতের দীর্ঘ বিরতির পর রক্তে শর্করার মাত্রা ধরে রাখতে শরীরে সংরক্ষিত গ্লাইকোজেন ভাঙতে গিয়ে লিভারের ওপর চরম চাপ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা সকালের ক্ষুধা না পেলেও পেট একেবারে খালি না রেখে ডিম সেদ্ধ, ওটস, বিভিন্ন বাদাম কিংবা চিয়া বীজের মতো পুষ্টিকর হালকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।
সকালের নাশতায় মিষ্টি সিরিয়াল, জ্যামযুক্ত পাউরুটি কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো উচ্চ ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার গ্রহণও বিপদ ডেকে আনে। মাত্রাতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে দ্রুত ত্বরান্বিত করে, যা ধীরে ধীরে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিতে পরিণত হয়। এমনকি সাধারণ চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত মধু বা তথাকথিত প্রাকৃতিক মিষ্টি উপাদানও লিভারের এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়াতে পারে না।
ঘুম ভেঙেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খালি পেটে ভিটামিন, কৃত্রিম খাদ্য সম্পূরক কিংবা ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের অভ্যাস লিভারের বিপাক ক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ করে বাজারে থাকা তথাকথিত ভেষজ পরিশোধক বা হারবাল ক্লিনজ পণ্য লিভারের সুরক্ষার পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ধরনের সম্পূরক গ্রহণ করা অনুচিত।
অ্যালার্ম বন্ধ করে বিছানায় দীর্ঘক্ষণ অলস শুয়ে থাকা এবং শরীরচর্চায় অংশ না নেওয়া সামগ্রিক বিপাকপ্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয়। শরীরকে সক্রিয় রাখতে সকালে জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ১০ মিনিটের স্বাভাবিক হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং শরীরের বিপাক ক্ষমতাকে সচল করে। অন্যদিকে বাজারে প্রচলিত লেবু, ভিনেগার বা রসুনের তৈরি তথাকথিত ডিটক্স পানীয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে। লিভার নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ফিল্টার ব্যবস্থা হওয়ায় কৃত্রিম এসব পানীয়ের বদলে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও সাধারণ সুষম খাদ্য গ্রহণই নিরাপদ।
সকালের সুস্থতার সঙ্গে আগের রাতের জীবনযাপন সরাসরি সম্পর্কিত। দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া, রাতে ভারী খাবার খাওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় পর্দার নীল আলোর সংস্পর্শে থাকা শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে লিভারের ওপর চাপ বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয়বহুল খাদ্য সম্পূরক বা অলৌকিক পানীয়ের পরিবর্তে পরিমিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত রাতের ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তাই লিভারকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখার সর্বোত্তম উপায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন