বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৬৮৯ মেগাওয়াট উৎপাদনের বড় লক্ষ্য

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৬৮৯ মেগাওয়াট উৎপাদনের বড় লক্ষ্য

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির হিস্যা বাড়াতে নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ৬৮৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত উন্নয়ন প্রস্তাব চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জমিও নির্বাচন করা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রসারে এটি একটি বড় মাইলফলক। মেগা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সুবিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি। এই প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যেই উৎপাদনে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বৃহৎ প্রকল্পের পাশাপাশি নিজস্ব স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই বছর আগেই ১৭টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি মাসের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার চারটি ছাদভিত্তিক সৌর ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক, চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিক, রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিক এবং খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ব্যবস্থা চালু করার জোর প্রস্তুতি চলছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের ভবনগুলোতে ১ হাজার ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, শিকলবাহায় ৭৫০ কিলোওয়াট-পিক, চট্টগ্রাম বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩৯০ কিলোওয়াট-পিক এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২ কিলোওয়াট-পিক। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে ৩০০, কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ১৯০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭, ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০, দোহাজারী-কালীআইশে ১২২, হাটহাজারীতে ৮৬, কাটাখালীতে ৭৩ এবং বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫ কিলোওয়াট-পিকের ব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বোর্ডের মালিকানাধীন বিভিন্ন অব্যবহৃত ছাদ ও পতিত জমিতে নিজস্ব অর্থায়নেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কার্যক্রমগুলো সফল হলে তা দেশের জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এটি পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ কমিয়ে আনবে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সাধারণ নাগরিকদের নিজ বাসাবাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে গভীরভাবে উৎসাহিত করবে।